ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তারের সরকারি গাড়িতে মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কিছু ওষুধ হাতেনাতে ধরেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম ইতোমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, তদন্তে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম ঠাকুরগাঁওয়ে এসে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা।
জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন, ঢাকা থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট যে তদন্ত টিম ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছে তাদের নাম ও পরিচয় আমি সঠিকভাবে বলতে পারব না। তবে, এতটুকু বলতে পারি- ওই তদন্ত টিমকে আমরা বলেছি, এর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য। এখানে ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গবাদিপশুর ওষুধগুলো লুকিয়ে একটি চক্রের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করতেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গবাদি পশুর খামার মালিক সিরাজুল আলম বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গেলে আমাদের গবাদি পশুগুলোকে সঠিকভাবে সেবা প্রদান করত না উপজেলা কর্মকর্তা। আমাদের জানাত- সরকারি ওষুধ নেই। কিন্তু আজ সরকারি ওষুধের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। সরকারি ওষুধ তিনি খোলাবাজারে বিক্রি করতেন, কিছু ওষুধ বিক্রি করতে না পেরে সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। আর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো নিজ হাতে ধরেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন খামারি বলেন, সরকারি গবাদি পশুর এসব ওষুধ গোপনে খোলাবাজারে বিক্রির পেছনে অনেক বড় একটি চক্র রয়েছে। আমরা চাই, সেই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে যেহেতু তদন্ত চলছে। আমি আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে সঠিক কারণ বেরিয়ে আসবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজহার আহমেদ খান বলেন, সরকারি গাড়িতে গবাদি পশুর সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত টিম জেলায় এসেছেন। তারা তদন্ত করছেন। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সার্কট হাউসে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তারের সরকারি গাড়িতে মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কিছু ওষুধ হাতেনাতে ধরেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ বেশ কিছু ওষুধ হাতে নাতে ধরার পরে সেদিন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এটা কোনোভাবেই করতে পারেন না সেই কর্মকর্তা। এটা অন্যায় করেছে, অবশ্যই এটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।