× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৃৎশিল্পীরা দুঃসময়ের মুখোমুখি

সোহেল রানা, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২১ এএম

বাজারে প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনেও বিক্রির আশায় পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পী। প্রবা ফটো

বাজারে প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনেও বিক্রির আশায় পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পী। প্রবা ফটো

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ টিকে থাকার লড়াই করছে। একসময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিটি ঘরেই হাঁড়ি-পাতিল, কলস, হাঁড়ি-সরা তৈরি হতো। এই শিল্পের ওপর নির্ভর করেই চলত শত শত পরিবার। কিন্তু কাঁচামাটির সংকট, জ্বালানি সমস্যা এবং বাজারে প্লাস্টিক ও সিসাজাত পণ্যের আগ্রাসনে ধ্বংসের পথে এই শিল্প।

স্থানীয়দের মতে, আগে কালিহাতী পৌর এলাকার দুটি গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে দুই শতাধিক পরিবারে। অনেকে পেশা বদল করে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখলেও বর্তমানে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কালিহাতী পৌরসভার দক্ষিণ বেতডোবা গ্রামের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিতাই পাল স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে নদীর পাড় কিংবা আশপাশের জমি থেকে সহজেই মাটি পাওয়া যেত। এখন সব জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। মাটি তুলতেও নিষেধাজ্ঞা আছে। এখন সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে ট্রাকে করে মাটি কিনে আনতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু হাঁড়ি-পাতিলের দাম আগের মতোই সস্তা।

উত্তর বেতডোবার সতিন্দ্র পাল ও আনন্দ পাল বলেন, একসময় ধানের নাড়া দিয়েই হাঁড়ি-পাতিল পোড়ানো হতো। এখন লাকড়ি কিনতে হয়। খরচ বাড়লেও বাজারে তাদের জিনিসের দাম বাড়ে না। সংসার চালানোই কষ্টকর।

কারিগর বিকাশ পাল বলেন, আগে উত্তর ও দক্ষিণ বেতডোবা মিলে প্রায় ৫০০ ঘর মৃৎশিল্পে জড়িত ছিল। এখন সর্বোচ্চ ২০০ ঘর আছে। বাকিরা পেশাবদল করেছেন। এই কষ্টকর পেশায় আয় কম। তাই নতুন প্রজন্ম এতে থাকতে চাইছে না।

শিল্পীরা মনে করেন, কাঁচামাটি সহজলভ্য করা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাটির জিনিসের চাহিদা বাড়বে। পাশাপাশি তাদের সহায়তায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন ডিজাইন ও আধুনিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তারা এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন।

তারা আরও মনে করেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মৃৎশিল্পকে ধরে রাখতে পারে।

কালিহাতী ইউএনও খায়রুল ইসলাম বলেন, মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। সরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা দেওয়ার সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই তা করব। সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা