বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৪৪ পিএম
বগুড়ায় ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘের (টিএমএসএস) দখল থেকে উদ্ধার করতোয়া নদীর জমিতে বৃক্ষরোপণ করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার বাঘোপাড়া এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) হোসনা আফরোজা।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকারসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা অংশ নেন।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল করতোয়া নদীর জমি দখল করে গড়ে তোলা বিসিএল গ্লাস কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘের (টিএমএসএস) মালিকানাধীন ওই কারখানা নদীর প্রায় ১৬ দশমিক ৯৭ একর জমি অবৈধভাবে দখল করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু শাহমা ও নাহিয়ান মুনসীফ।
অভিযানকালে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানিয়েছিলেন, বিসিএল গ্লাস ফ্যাক্টরির কিছু অংশ অবৈধভাবে নদীর জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল। ১৯৯৪ সাল থেকে টিএমএসএস করতোয়া নদীর বিভিন্ন অংশে বর্জ্য ফেলে কৌশলে জমি দখল করতে থাকে। এ নিয়ে কয়েকবার ভূমি জরিপ হলেও আগে কখনও জমি উদ্ধার করা যায়নি। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে জরিপে দেখা যায়, টিএমএসএস ১৬ দশমিক ৯৭ একর নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। নদী কমিশনের জরিপেও একই তথ্য উঠে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নদীর জমি কাউকে লিজ দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার করতোয়া নদীসহ দেশের সাতটি নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে করতোয়া নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে গত ২ জানুয়ারি টিএমএসএসকে একটি উচ্ছেদ নোটিস জারি করা হয়।
ওই নোটিসের প্রেক্ষিতে টিএমএসএসের পক্ষ থেকে তিনজন সাবেক জেলা প্রশাসক কর্তৃক স্থাপনার অনুমতিপত্র সংযুক্ত করে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন করা হয়। পাশাপাশি লিগ্যাল বিভাগ থেকে নোটিসের কার্যকারিতা অধর্তব্য ঘোষণার আবেদন জানিয়ে বগুড়ার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত প্রথমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হয়। এরপরই গত ৯ এপ্রিল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পরে পাউবো সেখানে করতোয়া নদী পুনঃখনন করে নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে।
শনিবার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই উদ্ধারকৃত জমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।