খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:১১ পিএম
বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন, বৈষম্যহীন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন এবং সামাজিক চুক্তির পুনর্বহালের লক্ষ্যে খুলনায় আত্মপ্রকাশ করল ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটি।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু যর আলকামাহ ও সদস্য তারিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যম-ডানপন্থী আদর্শকে ধারণ করে এই প্লাটফর্ম বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
সংগঠনের নেতারা জানান, আপাতত তারা একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ও প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ শুরু করলেও অদূর ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
গত ২৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনে গঠিত খুলনা জেলা আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে আছেন আবু যর আল কামাহ। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে আছেন তারিকুল ইসলাম সৌরভ। ৫০ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।
সংগঠনের ভিশনে বলা হয়, ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সুবিচার, মানবিক মর্যাদা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে বৈষম্যহীন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনই তাদের লক্ষ্য।
মিশন হিসেবে উল্লেখ করা হয় পিলখানা, শাপলা ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা খুলনার প্রতিটি উপজেলার সংকটও তুলে ধরেন।
নেতারা বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্য দূর করে জনগণের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। এজন্য স্বাধীন নাগরিক টাস্কফোর্স গঠন, প্রশাসনের জবাবদিহিতা, গত এক বছরে সংঘটিত ৭৬টি হত্যাকাণ্ডের বিচার, মিডিয়ার স্বাধীনতা, জুলাই আহত ও শহীদদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বন্ধ মিল-কলকারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হলোÑ অযোগ্য নেতৃত্ব, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক বৈষম্য। এগুলো দূর করতে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।