ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:২০ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৩ পিএম
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৫৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৫৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে গেছেন। এতে জেলার ছয় উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন মেরামত, বিলিংসহ সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে লাখ লাখ গ্রাহক পড়েছেন ভোগান্তিতে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও সাব-স্টেশনে কর্মরত মোট ৫৭৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৫৬৯ জন গণছুটিতে আছেন। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার ১১৭ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা জোনাল অফিসে ৮৫ জনের মধ্যে ৭০ জন, দাগনভূঞা উপজেলা জোনাল অফিসে ৭৪ জনের মধ্যে ৬৭ জন, পরশুরাম উপজেলায় ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জন, ফুলগাজী উপজেলায় ৪৯ জনের মধ্যে ৪৩ জন ও সোনাগাজীতে ৭৫ জনের মধ্যে ৬৮ জন গণছুটিতে রয়েছেন।
এরই মধ্যে ফুলগাজীতে দুই দিনের বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতায় উত্তেজিত গ্রাহকরা সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সড়ক অবরোধ করলে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরের বাসিন্দা ইয়াকুব হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, রবিবার থেকেই বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অভিযোগ জানাতে গেলে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। কবে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা কিছুই বুঝতে পারছি না।
দাগনভূঞা পৌরশহরের আলাইয়ারপুর এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, নতুন মিটারের আবেদন জমা দিতে এলে কাউকে পাইনি। কবে কাজ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে চললে আমাদের সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়বে।
পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর গ্রামের মো. নাহিদ বলেন, রবিবার রাত ৪টা থেকে সারা দিন বিদ্যুৎ নেই। এদিন রাত ৯টার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের জরুরি সেবার মোবাইল নম্বরও বন্ধ।
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি মো. রফিক বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। বর্তমানে লম্বা সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তা বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। বারবার আশ্বাস পেলেও কার্যকর হয়নি কিছুই। দাবি আদায় না হলে আমরা কাজে ফিরব না। তবে জনভোগান্তি আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
ফেনী সদর উপজেলার কসকা জোনাল অফিসের এজিএম কামরুল হাসান বলেন, এ অফিসে ৪০ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩৫ জন ছুটির আবেদন ফরম দিয়ে গণছুটিতে গেছেন। বাকি ৫ জন কর্মচারী দিয়ে ৩২ হাজার গ্রাহকের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ নুরুল হোসাইন জানান, ছয় উপজেলার বিভিন্ন অফিসে ৫৭৯ জনের মধ্যে ৫৬৯ জন গণছুটিতে থাকলেও ১০ জন কর্মী কাজে ফিরেছেন। তবে জনবল সংকটে ফুলগাজীতে বিদ্যুৎ মেরামতে বিলম্ব হচ্ছে। কর্মীদের কাজে ফেরাতে আলোচনা চলছে।