মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৭ পিএম
অভিযুক্ত হাসিবুল হোসেন শান্ত।
কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্র-জনতার সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন দৈনিক সময় কণ্ঠস্বর পত্রিকার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিক সাব্বির হোসেন (২৭)।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি হামলাকারী হাসিবুল হোসেন শান্তসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক সাব্বির হাসপাতালের ভেতরে চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে অবস্থান করছিলেন। দুপুর একটার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় হঠাৎ হামলা চালায় হাসিবুল হোসেন শান্ত (৩০) ও তার সহযোগী ৩-৪ জন। প্রথমে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং জোর দাবি তোলেন, ‘আগে আমাদের বক্তব্য নিতে হবে।’
সাংবাদিক সাব্বির তখন শান্তভাবে অনুরোধ করে বলেন. ‘ভাই, একটু চুপ করেন, আমি এদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। এরপর আপনাদেরও নেব। অতিরিক্ত নয়েজ আসছে।’ এ কথা বলার পরপরই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাসিবুল ও তার সহযোগীরা সাব্বিরের শার্টের কলার ধরে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এতে সাংবাদিকের নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় এবং ঠোঁট কেটে রক্তক্ষরণ হয়। পরে আশপাশে থাকা আন্দোলনরত ছাত্ররা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।’
পরবর্তীতে অভিযুক্ত হাসিবুল হোসেন শান্ত স্বীকার করে জানান, সাংবাদিককে না চিনতে পেরে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির বিগত কমিটিতে কিছু অবিপ্লবী যুক্ত হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, সাব্বির তাদের লোক। তাই ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি যে গণমাধ্যম কর্মী, সেটা আমি বুঝতে পারিনি।’
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বিলুপ্ত ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন। তিনি সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে যেকোনো পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
হামলার শিকার সাংবাদিক সাব্বির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সকাল থেকে কাজ করছিলাম, আন্দোলন সুন্দরভাবে চলছিল। হঠাৎ তারা কেন আমার ওপর হামলা করল বুঝতে পারিনি। আমি মারাত্মক জখম হয়েছি, ঠোঁট কেটে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। সাংবাদিকদের যদি ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে কাজ করব?’
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানান, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার ঘটনা নতুন নয়। সারাদেশে সম্প্রতি একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কয়েকদিন আগে গাজীপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় সাংবাদিক তুহিন নিহত হওয়ার ঘটনাও এখনও মানুষের মনে তাজা।