মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:২৩ পিএম
ছাগল-কাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়ায় এক উপপরিদর্শকসহ ১১পুলিশকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর সই করা এক আদেশে ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট দুপুরে নরসিংদীর শিবপুরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দনগরে নিরালা হাড্ডি নামের একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন দুপুরে খাবারের বিরতিতে ওই রেস্তোরাঁয় নেমেছিলেন তারা।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ সদস্যরা উৎকোচ নিয়ে ওই রেস্তোরাঁর একটি কেবিনে এক ব্যক্তির সঙ্গে মতিউরের গোপন বৈঠকের সুযোগ করে দেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের মধ্যে একজন এসআই, বাকিরা কনস্টেবল। এসআইয়ের নাম আবুল কাশেম। বাকি ১০ কনস্টেবল হলেন- মনিরুজ্জামান, কবির হোসেন, ইমরান, নির্জন খান, শামীম আলম, রনি হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তানভীর রহমান, আবু সাইদ মিয়া ও রবীন্দ্র দাস। তাদের সবাইকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের আদেশে বলা হয়, ১২ আগস্ট মতিউরকে কিশোরগঞ্জ কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুর্নীতির মামলা শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে ফিরতি পথে পুলিশের স্কট দল কোনো এক স্থানে দুপুরে খাবার খাওয়ার যাত্রাবিরতি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দলের সদস্যরা হাজতিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার শর্তে ঘুষ নেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদনও দাখিল করেছে। দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, হাজতি মতিউরকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর ফেরত নেওয়ার সময় স্কর্ট ডিউটি অফিসার ও ফোর্স অনিয়মে জড়িয়েছে।
আদেশে বলা হয়, হাজতি মতিউরকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ঢাকায় আদালতে হাজির করা হয় এবং হাজিরা শেষে তাকে ফেরত নেওয়ার পথে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রাবিরতির সময় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। স্কর্ট ইনচার্জের ব্যবস্থাপনায় হাজতিকে আলাদা কক্ষে বসিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। হাজতিকে আলাদা কক্ষে খাওয়ানো প্রচলিত স্কর্ট ডিউটির শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং ইনচার্জের দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এতে বলা হয়, ওই অফিসার ও ফোর্সের সদস্যরা উপরোক্ত কার্যকলাপ বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিপন্থি, অসৎ উদ্দেশ্য, অসদাচরণ ও জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।