× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শেষ বিকালের মায়াবী পাখি লাজুক রঙ্গিলা চ্যাগা

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৯ এএম

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:১৮ পিএম

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই বিলে সম্প্রতি দেখা মেলে রঙ্গিলা চ্যাগার। প্রবা ফটো

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই বিলে সম্প্রতি দেখা মেলে রঙ্গিলা চ্যাগার। প্রবা ফটো

বিলের অল্প জলাশয়ে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েকটি মায়াবী পাখি। পাখিগুলো লম্বায় ২৫-২৭ সেন্টিমিটার। গায়ের রঙ বাদামির ওপর সাদা-কালো-হলদে ছোপ, দেহতল সাদা। ঠোঁট অস্বাভাবিক লম্বা। ঠোঁটের অগ্রভাগ ঈষৎ বাঁকানো এবং পা খাটো। বলছি, লোকচক্ষুর প্রায় আড়ালেই থেকে যাওয়া পাখি রঙ্গিলা চ্যাগার কথা।

গত বুধবার বিকালে বিরল এই পাখিটির দেখা মেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই বিলে। পাখিবিশারদ ও স্থানীয়দের কাছে পাখিটি চ্যাগা ও কাদাখোঁচা নামে পরিচিত। অঞ্চলভেদে কোনাল পাখি নামেও পরিচিত। পাখিটির ইংরেজি নাম পেইন্টেড স্নাইপ, বৈজ্ঞানিক নাম রস্ট্রাটুলা ব্যানগাল্যান্সিস এবং গোত্রের নাম রস্ট্রাটুলিডি।

স্বভাবে খুব লাজুক এবং নিরীহ প্রকৃতির পাখি রঙ্গিলা চ্যাগা। স্ত্রী পাখি দেখতে বেশি সুন্দর। পরিযায়ী না হলেও স্থানীয়ভাবে স্থানান্তর হতে দেখা যায়। ঝোপ-জঙ্গল ঘেরা জলাশয় কিংবা বিল-ঝিলে বেশি দেখা মেলে। নিশাচর হলেও ভোরে কিংবা শেষ বিকালে খুব গোপনে শিকারে বের হয়।

এই পাখি নিজেদের আড়াল করে রাখতে পছন্দ করে। এরা মানুষ দেখলে চুপ করে বসে থাকে, নড়া-চড়া করে না। ভয় পেলে দ্রুত দৌড়ে পালায়। ঘাস, কচুরিপানা, মাটির গর্ত অথবা ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

পাখিবিশারদরা জানান, সুদর্শন এই পাখি নোনা ও মিঠা উভয় ধরনের জলাশয়ে বিচরণ করে। উপকূলীয় অঞ্চল, বিল-ঝিল, হাওর-বাঁওড় কিংবা পাহাড়ি এলাকার ঝরনার কিনারেও এদের দেখা মেলে। একাকী কিংবা ছোট ছোট দলে এরা চলাফেরা করে। এদের প্রধান খাবার ঘাসের কচি ডগা, ঘাসের বীজ, পোকামাকড় ইত্যাদি। 

পাখিটির প্রজনন সময় গ্রীষ্মকাল থেকে বর্ষাকাল। প্রজননকালে মেয়ে পাখি গোধূলি বেলায় গান গায়। তবে পূর্ণিমার সময় সারা রাত গভীর গলায় গান গায়। মেয়ে পাখি বহুগামী। মেয়ে পাখি সাধারণত এক মৌসুমে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সংসার করে। এক পুরুষ পাখির সাথে জোড়া বাঁধার পর মেয়ে পাখি ডিম পেড়ে অন্য পুরুষ পাখির সঙ্গে জোড়া বেঁধে আবার ডিম পাড়ে। প্রজননের পুরো সময় মেয়ে পাখি এমন কাণ্ড করে। এ সময় পুরুষ পাখি মাটির ওপর ঘাস, লতাপাতা বিছিয়ে বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরি হলে স্ত্রী পাখি দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। পুরুষ পাখি ১৫ থেকে ২১ দিন ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে লালন-পালন করে। পাখির জগতে এমন ব্যতিক্রমী নিয়ম খুব কম প্রজাতিতে দেখা যায়।

ঘাটাইলের শৌখিন ফটোগ্রাফার ও গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘রঙ্গিলা চ্যাগা পাখিটি একসময় দেশের হাওর, বিল, চরাঞ্চল, পাহাড়ি ঝরনা, ছোট ছোট জলাশয়ে প্রচুর দেখা যেত। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হওয়ায় সাথে সাথে এসব পাখির সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। জলাশয় রক্ষা করে পাখির আবাসস্থলকে নিরাপদ করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা