জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:২৬ পিএম
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৮ বছর বয়সী শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মেহেদি হাসান (৩০) নামে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকাল তিনটায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার মেহেদি হাসান আক্কেলপুর পৌর এলাকার সরদারপাড়া মহল্লার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি কেশবপুর মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবার জানায়, মেহেদি হাসান মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল বেলা মসজিদের বারান্দায় দুই ব্যাচে ভাগ করে শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেন। বুধবার সকাল আটটার দিকে ক্লাস শেষে সকল শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে বাড়ি যেতে বলেন। শুধু ওই শিশুকে বিশেষভাবে শিক্ষা দেওয়া হবে বলে থাকতে বলেন। এরপর তিনি ওই শিশুকে মসজিদের পাশে তার রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এসময় শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে মেহেদি তাকে ১০ টাকা দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে ঘটনাটি মাকে জানালে তার মা গ্রামের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই মাদ্রাসায় এসে ঘটনাটির কারণ জানতে চাইলে ইমাম অস্বীকার করেন। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী তাকে মাদ্রাসার ভেতরে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
শিশুটির মা বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন সকালে আরবি পড়তে যায়। ওই হুজুর আমার মেয়ের সঙ্গে যে খারাপ কাজ করেছে, সেগুলো মেয়ে বাসায় এসে কান্না করতে করতে আমাকে জানায়। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি। তার বিচার চাই।
গ্রেপ্তারের পর থানা চত্বরে ইমাম মেহেদি হাসান বলেন, ‘বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ বাচ্চার মা আর বাবা এসে আমাকে মারতে জুতা তোলে, আমি তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, আমি নাকি বাচ্চাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি সঠিক নয়।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা আটকে রাখার খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।