× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকের বিচার দাবি

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৭ পিএম

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকের বিচার দাবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লিমা আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। নবজাতক সুস্থ থাকলেও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের।  

মঙ্গলবর (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মেডিকেল মোড় এলাকায় মা ও শিশু ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। প্রসূতির স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করান ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ও কালিকাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাবিবা বিনতে ইসলাম।

জানা গেছে, গতকাল রাতে পুঁটিমারি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া এলাকার নগেন আলীর মেয়ে লিমা বেগমের সন্তান প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে মেডিকেল মোড় এলাকার মা ও শিশু ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। সেখানের দায়িত্বরত চিকিৎসক হাবিবা বিনতে ইসলাম কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রসূতিকে নিয়ে যায় ডেলিভারি রুমে। কিছুক্ষণ পরে একটি ইনজেকশন দিলে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় লিমা বেগম। তবে সন্তান প্রসব হওয়ার পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি চিকিৎসকরা বলে অভিযোগ রয়েছে স্বজনদের। পরে প্রসূতিকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক থেকে সরে পড়েন দায়িত্বরত চিকিৎসক হাবিবা বিনতে ইসলাম।  

স্থানীয়রা জানায়, মা ও শিশু ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার অনুমতি থাকলেও তারা নিয়মিত প্রসূতির সন্তান প্রসব করার। এতে প্রসূতি ও নবজাতক শিশুর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগেও একটি শিশুর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে এ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে।  

লিমা বেগমের বাবা নগেন আলী বলেন, আমার মেয়ের গতকাল রাতে সন্তান প্রসব ব্যথা উঠলে আমরা তাকে মা ও শিশু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার মেয়ের সন্তান প্রসব করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সেখানের চিকিৎসক হাবিবা সামলিয়ে উঠতে না পারলে আমার মেয়েকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এতে আমরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। আমার মেয়ে চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে; আমি চিকিৎসকের বিচার চাই ।  

এবিষয়ে পুঁটিমারি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাবিবা বিনতে ইসলাম বলেন, আমার ক্লিনিকে কোনো গর্ভপাত করানোর অনুমতি নেই। ক্লিনিকের সঙ্গে আমার বাসা সেখানে আমি প্রসূতির নরমাল ডেলিভারির কাজ করি। গতকাল রাতে যে রোগীকে নিয়ে আসা হয়েছিল তার প্রসব ব্যথা ছিল। এজন্য তাকে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিনি, পরে রাতে তার ডেলিভারি করাতে গিয়ে সন্তান প্রসব করার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এ সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ আমি সামলাতে না পারলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে আমি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, মা ও শিশু ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমতি নিয়ে সেখানে গর্ভপাত করানোর কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কোনো নার্স কিংবা কেউ অনুমতি ছাড়া নিজ বাড়িতে ব্যবসায়িকভাবে প্রসূতিদের সন্তান প্রসবের কাজ করতে পারবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। আশা করি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা