শের-ই-বাংলা মেডিকেল
শাকিল মাহমুদ, বরিশাল
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৭ এএম
ফাইল ফটো
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এক হাজার শয্যা থেকে তিন হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসাপাতাল বানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ করে রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের মধ্যে হাসপাতালটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে তার জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, রোগীদের স্থাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে তিন ধাপে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, রোগীরা যাতে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পায় তার জন্য ইতোমধ্যে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অতি-সম্প্রতি তিনি এক বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালে রোগী উন্নত স্থাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা ছাড়াও ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জের কিছু অংশ ও খুলনা বিভাগের বাগেরহাটের অনেক রোগীসহ দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
এক হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে রয়েছে বেশ জনবল সংকট। যতটা অবকাঠামোর উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। এতে বছরে প্রায় ৭ লাখ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে হাসপাতালের রোগীর স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা ১০টি থেকে ২০টি মেশিনে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২টি মেশিনে সি-ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস করা হয়। আরও ৫টি মেশিন ক্রয় প্রক্রিয়াধীন। আউটডোর ও ইনডোরের প্রায় সব রোগীর প্যাথলজি ও রেডিওলজি পরীক্ষা হাসপাতালেই করা হচ্ছে। সিটি স্ক্যান মেশিন পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এন্ডোসকপি, কোলনস্কপি, ফাইব্রোস্ক্যান, ইভিএল, কিডনি বায়োপসি পরীক্ষা ও নেফ্রোলিথোটমিসহ কিডনি ও ইউরোলজির সব ধরনের অপারেশন নিয়মিত হচ্ছে। কার্ডিওলজি, রিউমাটোলজি, ইউরোলজি, ভাস্কুলার সার্জারি আউটডোর, এন্ড্রোক্রাইনোলজি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, নিউরো সাজারি, হেমাটোলজি ইনডোর চিকিৎসা চালু করা হয়েছে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইউনিট (লিভার, কিডনি, হরমোন ও ডায়াবেটিস, বক্ষব্যাধি, পরিপাক তন্ত্র, নিউরো, রিউমাটোলজি ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, হেমাটোলজি) চালু রয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে ন্যাশনাল ইলেকট্রো ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) থেকে ৭ সদস্যের কারিগরি টিম হাসপাতালে ৯৫টি অচল মেশিন সচল করা হয়েছে। অচল থেকে সচল হওয়া মেশিনগুলোর মধ্যে আছেÑ ৬টি অ্যানেস্থেশিয়া মেশিন, ২৫টি সাকশন মেশিন, ১০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ৫টি অটোক্লেভ, ১টি সি-আর্ম মেশিন, ২টি মনিটার, ৮টি ওটি টেবিল, ৫টি ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর, ১০টি হাই ফ্লো নাসাল ক্যানুলা, ৫টি আইসিইউ বেড, ৬টি ওটি লাইট, ৫টি ডেন্টাল ইউনিট, ২টি ডায়াথার্মি মেশিন, ৪ ইসিজি মেশিন ও ১টি এক্সরে মেশিন। আরও ২০টি মেশিন সচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একাডেমি কাউন্সিলের বর্ধিত সভায় মেডিসিন বিভাগের মূল ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরের কাজ শুরুও হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই ভবনের নিচ তলায় মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বহির্বিভাগ স্থানান্তর করে চালু করা হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে এ মাসেই ওই ভবনে সব বহির্বিভাগ সরিয়ে নিয়ে চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে পুরাতন ভবন পুরোপরি ইনডোর ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। রোগীদের সুবিধার্থে নতুন আউটডোর ভবনে টিকিট কাউন্টার ও ডিসপেনসারি চালু করা হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের জন্য দর্শনার্থী কার্ড প্রাথমিকভাবে চালু করা হয়েছে।
পরিকল্পনা রয়েছে, পরবর্তী সময়ে পুরো হাসপাতাল দর্শনার্থী কার্ডের আওতায় আনা হবে। রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালে সব স্বেচ্ছাসেবী ট্রলি ম্যানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন ৪৬ জন জনবল নিযুক্ত হওয়ায় বর্তমানে ট্রলি ম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি স্টাফদের।
পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের বেশি সময়ে হাসপাতালের রোগীর স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ভবিষ্যতে যে সব চাহিদা ও দাবি এবং পরিকল্পনার প্রস্তবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন, তা দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে আছে। তা হচ্ছে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে এক হাজার শয্যা হাসপাতালটিকে তিন হাজারে বাড়ানো এবং পুরাতন ৫ তলা ভবনটি পর্যায়ক্রমে ২০ তলায় রূপান্তরসহ আরও বেশকিছু প্রস্তাব রয়েছে।