× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টিকা কার্ড সংকটে জন্ম নিবন্ধন বিড়ম্বনায় শত শত শিশু

বাগেরহাট প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:২২ পিএম

টিকা কার্ড সংকটে জন্ম নিবন্ধন বিড়ম্বনায় শত শত শিশু

শিশু জন্মের পরপরই টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম, রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, ধনুস্টংকারসহ ১০ প্রকার টিকা নির্ধারিত সময়ে গ্রহণের মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এই টিকা গ্রহণের জন্য প্রতিটি শিশুকে দেওয়া হয় একটি টিকা কার্ড, যেখানে তারিখ ও তথ্য সংরক্ষিত থাকে। অথচ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাগেরহাটে শিশু টিকা কার্ডের সরবরাহ বন্ধ। ফলে শত শত শিশু টিকা নিলেও জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পড়ছে চরম বিড়ম্বনায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, টিকা কার্ডের অভাবে বিকল্প হিসেবে সাদা কাগজে হাতে লিখে অথবা মায়েদের টিটি টিকা কার্ডে শিশুদের টিকা দেওয়ার তারিখ উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে শিশুরা নিয়মিত টিকা পেলেও জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা। কারণ জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এই কাগজগুলোকে গ্রহণ করছে না পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

পৌর এলাকার বাসিন্দা কবির আহমেদ বলেন, আমার সন্তানের বয়স তিন মাস। ইপিআই টিকা দেওয়ার পর যে কার্ড দেওয়া হয়, তা হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে সন্তানের জন্ম নিবন্ধনও করতে পারছি না।একই এলাকার বেলাল হোসেন বলেন, আমার সন্তানের প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কার্ড পাইনি। হাতে শুধু সাদা কাগজে একটি স্লিপ দেওয়া হয়েছে। অথচ জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইপিআই টিকা কার্ড চাইছে।

অভিভাবক শাহানা বেগম বলেন, বাচ্চার জন্য টিকা কার্ড নিতে গিয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কার্ড নাই পরে ছাপিয়ে এনে দেবে। শহরের বাসাবাটির বাসিন্দা সুমা আক্তার বলেন, বাচ্চার সব টিকা নেওয়া শেষ কিন্তু জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে আটকে গেলাম। অফিস থেকে বলছে টিকা কার্ড লাগবে। হাতে লেখা কাগজ বা টিটি কার্ডে হবে না। এখন স্কুলে ভর্তি নিয়েও চিন্তায় আছি।

বাগেরহাট সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বলেন, বাচ্চার জন্মের এক বছর হয়ে গেল কোনো টিকা কার্ড পাইনি। ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে তারা ফিরিয়ে দেয়। বলছে এই কাগজে হবে না। অথচ সরকারি কার্ড তো আমাদের হাতে আসেইনি।

ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের বাসিন্দা পারুল বেগম বলেন, প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা বলে টিকা কার্ড ছাড়া নিবন্ধন হবে না। অথচ আমরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সাদা কাগজই পেয়েছি। সন্তান জন্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এভাবে ঝুলে থাকা খুব কষ্টের।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে ২০২৪ সালে শিশু টিকা কার্ডের চাহিদা ছিল ৩৪ হাজার। ২০২৫ সালে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কার্ড সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জন্ম নিবন্ধনের জন্য শিশুর প্রকৃত জন্ম তারিখ নিশ্চিত করা জরুরি। আর এই তারিখের প্রমাণ হিসেবে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় শিশুর টিকা কার্ডকে। কারণ গুরুত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ নিবন্ধন, চাকরি, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ব্যাংক হিসাব খোলা, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ, টিআইএন ও ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি সেবায় জন্ম সনদ প্রয়োজন। জাতীয় পরিচয়পত্র করতেও লাগে জন্ম নিবন্ধন। অথচ টিকা কার্ড না থাকায় অনেক শিশু জন্ম সনদ পাচ্ছে না, আবার যাদের জন্ম সনদ আছে তাদের ক্ষেত্রেও ভুল নাম, ইংরেজিকরণ ও সংশোধনের জটিলতায় ভোগান্তি বাড়ছে।বাগেরহাট পৌরসভার ভ্যাকসিনেটর সুপারভাইজার তাহমিনা খাতুন বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে মায়েদের কার্ড বা সাদা কাগজে তারিখ লিখে টিকা দিচ্ছি। তবে জন্ম নিবন্ধনের জন্য এগুলো যথাযথ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আসল টিকা কার্ড ছাড়া জন্ম তারিখ নির্ধারণ করা যায় না।

ষাটগুম্বজ ইউনিয়নের প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, টিকা কার্ড ছাড়া জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব নয়। কারণ শিশুর জন্মতারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কাগজ হচ্ছে টিকা কার্ড।বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, টিকা কার্ড না থাকলেও আমরা টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখিনি। শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে বিকল্প কাগজে। তবে জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত কার্ড সরবরাহ করা হবে।

জেলার নয়টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভায় প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতি বছর লাখো শিশু জন্ম নেয় এবং টিকা কার্যক্রমের আওতায় আসে। অথচ টিকা কার্ড সংকটে এখন তাদের জন্ম নিবন্ধন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অভিভাবকরা বলছেন, আমরা চাই, শতভাগ শিশুর জন্ম নিবন্ধন হোক। কিন্তু টিকা কার্ড না থাকায় আমাদের সন্তানরা বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা