নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
প্রতীকী ছবি।
নওগাঁয় পৃথক ঘটনায় পুকুর ও নদীতে ডুবে দুই শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে পুকুরে ডুবে দুই শিশু এবং একই সময়ে রানীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর সরদারপাড়া গ্রাম সংলগ্ন ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাধ এলাকায় অপর এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতরা হলেন- আরাফাত হোসেন (৬), নাঈম হোসেন (৪) ও মাম্পি হোসেন (১৮)। মৃত আরাফাত হোসেন বিনোদপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে ও নাঈম হোসেন একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। মৃত মাম্পি হোসেন বদলগাছি উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে।
মহাদেবপুর থানার ওসি মো. শাহীন রেজা জানান, সোমবার সকালের দিকে আরাফাত, নাঈমসহ কয়েকজন শিশু বাড়ির পাশেই খেলাধুলা করছিল। খেলার একপর্যায়ে আরাফাত ও নাঈম নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন খোঁজা খুজির এক পর্যায়ে এক শিশু পুকুরের পানিতে ভেসে উঠে। তাকে উদ্ধার করার পরপর অপর শিশুটিও পানিতে ভেসে উঠে। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা থেকে ছোট যমুনা নদী হয়ে নৌকাযোগে চলনবিল ও পাটুরিয়া ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সরদারপাড়া বেড়িবাধ এলাকায় মাম্পি হোসেন নৌকা থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরের দিকে একই এলাকায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
রানীনগর থানার এসআই জুলফিকার আলী জানান, শনিবার সকালে বসন্তপুর গ্রাম থেকে মাম্পিসহ ৪০ জন সঙ্গী নিয়ে নৌকাভ্রমনে তারা নাটোরের চলন বিল ও পাটুরিয়া এলাকায় যায়। রবিবার বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলে বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ করে নৌকা থেকে মাম্পি নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় রায়নগর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবরী দল নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান করতে পারে নাই। পরে আজ সোমবার সকালে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের অপর একটি ডুবুরি দল এসে মাম্পিকে খোঁজ করতে নদীতে নামে। দুপুর ১২ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এসআই জুলফিকার আলী আরো জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।