ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৫ পিএম
এক সড়কে পাল্টে গেছে ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পিনপিনিয়া গ্রামের চিত্র। বৃদ্ধি পেয়েছে স্থানীয়দের জীবনমানও। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বড়বিল-পিনপিনিয়া গ্রামের এলাকাবাসী প্রায় দেড় কিলোমিটার এ সড়কে দুর্ভোগের শেষ ছিল না মানুষের। গ্রামের চারপাশ উঁচুনিচু পাহাড়-টিলায় বেষ্টিত। ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজ যেতে পারত না। বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাওয়া ছিল রীতিমত দুঃসাধ্য।
অপরদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারতেন না কৃষকরা। এবার সেখানে পাকা সড়ক নির্মাণে শেষ হয়েছে দুর্ভোগের দিন। বদলে গেছে গ্রামের আর্থসামাজিক চিত্র।
১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত গ্রাম পিনপিনিয়া। পিনপিনিয়া জামে মসজিদের সামনে থেকে সড়কটি শুরু হয়ে শেষ হয়েছে পিনপিনিয়া ছড়া ঘেঁষে। গ্রামীণ সড়কটির দুই পাশে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি। সবুজ শ্যামলে ভরপুর এই গ্রামের চারপাশ উঁচুনিচু পাহাড় আর টিলায়। যার এক পাশে বহমান ফটিকছড়ি খাল। প্রায় দেড় কিলোমিটার এই সড়কটি নিয়ে দুর্ভোগ আর আক্ষেপের শেষ ছিল না এলাকাবাসীর। অপরদিকে, কৃষক তার কস্টে অর্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেতে হতো অনেক কষ্ট। তবে, এবার শেষ হয়েছে সব দুর্ভোগ আর কষ্ট। কারণ, কাঁদাযুক্ত সড়কটি পাকা হয়েছে। আর তাতেই পাল্টে গেছে ইউনিয়নের বড়বিল-পিনপিনিয়া গ্রামের অন্তত ৫ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা। এ কারণে উচ্ছ্বাসিত স্থানীয়রা।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিকস ফ্ল্যাট সলিং দ্বারা সড়কটির উন্নয়নের কাজ করা হয়। পানি নিষ্কাশনে এ সড়কের মাঝে দু’টি কালভার্ট তৈরি করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহরম আলী বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় এ সড়কটি নির্মাণ হওয়াতে গ্রামের চিত্র পাল্টে গেছে। সঙ্গে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে।’
কৃষক নুরুল আলম বলেন, এ সড়কটি দিয়ে হাঁটাচলা করাও দুঃসাধ্য ছিল। সড়কটি পাকা হওয়ায় গ্রামের মানুষের খুব উপকার হয়েছে। খুব সহজে চলাফেলা করতে পারি। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করায় আশান্বিত হয়েছে প্রশাসনের ওপর।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় নিমজ্জিত ছিল। গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় দেড় কি.মি. সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতেও অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।