যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২৩:০৫ পিএম
যশোরের শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সাতটিই এখন ইছামতি নদী পানিতে প্লাবিত। দেড় মাস ধরে ভারতের ঢলের পানি ও ভারী বর্ষণের কারণে শার্শার সাতটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে এখন বুক সমান পানি।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে বাহাদুরপুর সর্বাংহুদা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সর্বাংহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় পানি উঠার উপক্রম। বাচ্চারা ডিঙ্গি নৌকায় স্কুলে যাতায়াত করছে। স্থানীয়রা জানান, গ্রামের স্কুলগুলোসহ রঘুনাথপুর, ঘিবা, ধান্যখোলা, বোয়ালিয়া জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা দেড় মাস ধরে পানিবন্দি। এ অবস্থায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
সর্বাংহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় হোসেন জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে ইছামতি নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ায় ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তাদের স্কুলেও পানি উঠেছে। ঠিকমতো ক্লাস করা যাচ্ছে না বলে জানায় শিক্ষার্থী হৃদয়। শিক্ষকরা হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে আসেন। শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে স্কুলে যেতে হচ্ছে। এতে পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে।
সর্বাংহুদা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি শামসুর রহমান বলেন, গত দুই বছর ধরে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন পানির ঢলে প্লাবিত হচ্ছে। সর্বাংহুদা ও রঘুনাথপুর, ঘিবা, গোগা দৌলতপুর, খোলসী, কাইবা, পুটখালীসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের কয়েকশ পরিবার উজানের পানির ঢলে ও টানা বৃষ্টির কারণে প্লাবিত। সরকার যদি দ্রুত পানি সরানোর ব্যবস্থা না করে তাহলে দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হবে। উপজেলা প্রশাসন এখনও পানি সরানোর ব্যাপারে এগিয়ে আসেনি। জলবদ্ধতা নিরসনে তাই প্রশাসনের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন তিনি।
ঘিবা সীমান্তের নজরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক আগে থেকেই পানির ঢল নামে। তবে গত বছর এবং চলতি বছর ইছামতি নদীর পানিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এই অঞ্চলের অন্তত ১০-১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় কয়েকশ পরিবার এখন পানিবন্দি।
সর্বাংহুদা গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ভারী বর্ষা ও পানির ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বাংহুদা গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম বন্যার কারণে মানুষ দুর্বিষহ জীবন পার করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি সরানোর ব্যবস্থা না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
শার্শা উপজেলা ইউএনও ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন, গত বছর থেকে সীমান্তের বেশ কয়েকটি গ্রাম উজানের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নে এই চাল বিতরণ ও করা হয়েছে। বন্যাপ্লাবিত এলাকায় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, চিনি, তেল, লবণ, মসলাসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ঢলের পানি বন্ধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সঙ্গে আলাপ হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, উজানের পানির ঢলে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। এর স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।