ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ২২:১২ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ২২:১৫ পিএম
গুমের শিকার রিপনের মায়ের করুণ আর্তি, ‘আমার সন্তান রিপনের খোঁজ এনে দিন’। শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ফেনী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মানববন্ধন ও মতবিনিময় সভায় এ আর্তি জানান যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার, ফেনী ইউনিট।
অধিকার, ফেনী ইউনিটের ফোকাল পারসন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার, ফেনী ইউনিটের সদস্য সাংবাদিক শাহজালাল ভূঁইয়া। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গুমের শিকার মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম। ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক আনন্দ তারকা সম্পাদক এম মামুনুর রশিদ, ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহমদ আলী, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার, দৈনিক সুপ্রভাত ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফিরোজ আলম, জাসাস ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি কাজী ইকবাল আহমেদ পরান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিকার প্রতিনিধি তন্বী সোম। বক্তব্য রাখেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নসু, গুমের শিকার মাহবুবুর রহমান রিপনের বড়ভাই মাহফুজুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
সভায় গুম হওয়া যুবদল নেতা রিপনের মা রওশন আরা পরিবারের কাছে তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘১১ বছর আগে ২০১৪ সালে আমার ছেলে যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে (র্যাব) তুলে নিয়ে যায়। যার পেছনে আওয়ামী লীগের ফেনীর এক প্রভাবশালী নেতা জড়িত। বিএনপির নেতা গাজী মানিকের অনুসারী ছিল আমার ছেলে, সেই গাজী মানিক আজ আমাদের খবর নেয় না। রিপন গুম হওয়ার পর মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। আজও তার হদিস পাইনি। আমার ছেলেকে গুমের বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ১১ বছরও মেলেনি বিচার। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমার ছেলের গুমের বিচার করবে- আমি সেই প্রত্যাশা করি। রিপনের মত আর কোনো ব্যক্তি যেন গুমের শিকার না হয়, সেজন্য রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভায় ফেনীতে গুমের শিকার হওয়া যুবদল নেতা রিপনের মা, ভাই, চাচাসহ স্বজনরা এবং মানবাধিকার সংগঠক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।