ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৪৪ পিএম
ভোলায় মো. সাইফুল্লাহ আরিফ নামে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে হত্যা করে মরদেহ তার বসতঘরের সামনে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সদর পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি রোডের মসজিদ-ই নববীর পশ্চিম পাশে নিজ বসতবাড়ির সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাইফুল্লাহ আরিফ (২৮) ভোলা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ ই নববী সংলগ্ন এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. বশির উদ্দিনের ছেলে। সে ভোলা সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।
শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, নিহত আরিফের বাড়ির সামনে রক্ত জমে আছে। পড়ে আছে একটি ছেঁড়া প্লাস্টিকের চটি। ঘরের ভেতর শোকাবহ পরিবেশ, চলছে নারীদের বিলাপ-আহাজারি।
নিহত আরিফের বাবা বসির মাস্টার বলেন, ‘দুই সন্তানের মধ্যে আরিফ ছোট। সে ঢাকা সিটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে চাকরির খোঁজে ছিলেন। আরিফ ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট থেকে প্রায় ছয় মাস আত্মগোপনে ছিলেন। আমার অসুস্থতার সংবাদে দুদিন আগে বাড়িতে এসেছিল সে। গতকাল রাতে আরিফ পরিবারের সঙ্গে খাওয়া শেষে রাত ১টা পর্যন্ত নিজের কক্ষেই ছিল, পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে ফজরের আজানের সময় নামাজ পড়তে বের হলে বসতঘরের সামনে সাইফুল্লাহ আরিফেন রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
পরিবারের অভিযোগ, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সাইফুল্লাহ আরিফকে ঘর থেকে ডেকে বের করে কুপিয়ে ও আঘাত করে হত্যা করেছে।
ভোলা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) শংকর তালুকদার জানান, নিহতের মরদেহে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে।
ভোলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে এর পেছনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।