বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ২২:৫৫ পিএম
প্রবা ফটো।
রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা। চলাচল করে না কোনো যানবাহন। পায়ের জুতা হাতে নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ৪০ বছর ধরে। বিভিন্ন সময় সরকারের পালাবদল হলেও এই রাস্তার উন্নয়নে কেউ একটি ইটের খোয়াও ফেলেনি। এমন দুরবস্থা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তার।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজাপুর গ্রামের ফকির বাড়ির সামনে থেকে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত এক কিলোমিটার মাটির রাস্তা। রাস্তাটি ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। তারপর আরও কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান পানি, কাদা থাকে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পথচারীরা সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।
রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে খাদিজা ও নবম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মোসা. জান্নাত আক্তার অভিন্নভাবে বলেন, বর্ষায় আমরা নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতে পারি না। হাঁটু সমান কাদাপানি থাকে। বিভিন্ন সময় আমরা পিছলে পড়ে আহত হই। রাস্তা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, রাস্তাটা দ্রুত পাকা করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহরাব মিয়া (৫৫) বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ ৪/৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করেন। কিন্তু বর্ষায় রাস্তাটি দিয়ে চলাচলের কোনো অবস্থা থাকে না। কোনো যানবাহন চলে না। এলাকায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এমনকি এই রাস্তাটির কারণে এই রাজাপুর গ্রামে কেউ বিয়েও করতে চান না।
আরেক বাসিন্দা মো. আব্বাস হোসেন (২৭) বলেন, ৪০ বছরের আগের পুরানো রাস্তা এটি। বিভিন্ন সময়ে অনেক সরকার এসেছে। অনেক চেয়ারম্যান, মেম্বার, এমপি এই রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কেউই রাস্তাটির উন্নয়নে কোনো কাজ করেননি। যে কারণে বছরের পর বছর এসব এলাকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সুপার মাও. আজাহার উদ্দিন বলেন, ১৯৮৫ সালে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়। সেই সময়ে মাদ্রাসার চলাচলের জন্য এলাকাবাসী মাটির রাস্তাটি তৈরি করে। যে রাস্তা দিয়ে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ৪/৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকম হাঁটাচলা করতে পারলেও বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তাটির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে একাধিক আবেদন করেছি। তবে কেউ আমলে নেয়নি। রাস্তাটির অবস্থা বেহাল হওয়ার কারণে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মাদ বোরহান উদ্দিন বলেন, বাউফলে ৫০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। এসব সড়ক পাকাকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। রাজাপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কটি গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা পটুয়াখালী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের চেষ্টা করব।