শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ২১:২৮ পিএম
প্রবা ফটো।
মাদারীপুরের শিবচরের মির্জাকান্দি এলাকায় বিল পদ্মা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এই নৌকাবাইচ উপভোগ করতে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকালে ট্রলার, ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে মাঝ নদী ও নদীর উভয় পাড়ে শিশু, নারী, পুরুষসহ হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল নামে।
জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের মির্জাকান্দি জাগরনী একতা ক্লাব ও স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে শুক্রবার বিকালে বিল পদ্মা নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। বিকালে নৌকাবাইচ শুরু হলেও দুপুর থেকেই শিবচর উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে বিল পদ্মা নদীর উভয় পাড়ে। ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ও ট্রলারে চড়ে মানুষ মাঝ নদীতে অবস্থান নেন নৌকাবাইচ উপভোগ করতে। নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় বিল পদ্মা নদী ও উভয় পাড়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে হরেক রকমের খেলনা ও মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।
উৎসবমুখর প্রতিযোগিতা শেষে সালাম মুন্সির নৌকা চ্যাম্পিয়ন এবং মালেক বেপারীর নৌকা রানার্সআপ হয়। পরে অতিথি ও আয়োজক কমিটি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের এলইডি টিভি তুলে দেয়। নৌকাবাইচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেজাউল করিম রেজা। এসময় মির্জাকান্দি জাগরনী একতা ক্লাবের সভাপতি ও আয়োজক মো. বোরহান শিকদার, উপজেলা যুবদল নেতা মো. রাসেল মোল্লা, মাস্টার কামাল হোসেন, নোমান শিকদার, লিটন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
স্কুলছাত্র আবিদ হাসান বলেন, ‘আমি জীবনে প্রথমবার নৌকাবাইচ দেখলাম। আমার কাছে অনেক আনন্দ লেগেছে। প্রতিবছর নৌকাবাইচ যেন হয়, এটাই আমার চাওয়া।’
দর্শনার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি প্রবাসে বসবাস করি। তাই সবসময় নৌকাবাইচ দেখার সুযোগ থাকে না। এ বছর বর্ষা মৌসুমে বাড়ি এসেছি বলে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ দেখার সৌভাগ্য হলো। ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের।’
মির্জাকান্দি জাগরনী একতা ক্লাবের সভাপতি বোরহান শিকদার বলেন, ‘নৌকাবাইচ আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। আগামীতে আরও বড় আকারে আয়োজন করা হবে।’
শিবচর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) আমিনুর রহমান বলেন, ‘ওসি স্যারের নির্দেশে আমরা একটি টিম নৌকাবাইচ চলাকালে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো বিশৃংখলা ছাড়াই সুন্দরভাবে নৌকাবাইচ সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সুবাদে নৌকাবাইচ দেখার সৌভাগ্য হলো। খুব ভাল লাগলো। গ্রামীণ এই ঐতিহ্য ধরে রাখা উচিত।’