কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২১:১৬ পিএম
৩৮ বছর চাকরি করেছেন। চাকরি শেষে আয়োজন করা হয়েছে বিদায় অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠান শেষে কুশল বিনিময়ের সময় কর্মকর্তাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদলেন কর্মচারিরা। কেউ তাকে জড়িয়ে কাঁদছেন, কেউ পায়ে ধরে দোয়া চাইছেন। কেউ কেউ প্রিয়জন হারানোর মতো ফুপিয়ে কাঁদছেন। কেউ দূরে দাঁড়িয়ে চোখ মুছছেন।
সহিদুল্লাহ মজুমদার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘স্যার আমাদের মাথার তাজ ছিলেন। আমাদের সন্তানের মতো দেখে রেখেছেন। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। স্যার আর আমাদের কাছে থাকবেন না, এটা মানতে পারছি না।’ এ রকম শরীফ হোসেন, ইব্রাহিম খলিল রনিসহ কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে এই দৃশ্য দেখা যায় কুমিল্লা লাকসাম জংশন এলাকার উর্ধ্বতন উপসহকারীর (পথ) কার্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানে। কর্মচারিদের কান্না দেখে আবেগতাড়িত হয়ে চোখ মোছেন অবসরে যাওয়া রেলওয়ে কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘আমি কর্মচারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। সে কারণে হয়তো তারা আমার বিদায়ে ব্যথিত। আমি তাদের জন্য দোয়া করি। তারা যেন রেলওয়ের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারে।’
৩৮ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘কান্না হাসির অনেক গল্প আছে। একটা দুর্ঘটনা পরিদর্শন করে বাসায় গেছি। হাতমুখ ধুয়েছি। খেতে বসব, এ সময় খবর এল আরেকটি দুর্ঘটনার। সে সময়ে খাবার রেখে দৌঁড়াতে হয়েছে। হবে আগে রেলওয়ের অনেক সংকট ছিল। সে সময় কাজ করতে কষ্ট হতো। তবে সে সংকট অনেক কেটে গেছে।’
কুমিল্লা রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক, লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ, লাকসাম রেলওয়ের কার্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, নতুন যোগদান করা লাকসাম পথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার, সাংবাদিক নাসির উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে লাকসাম রেল অঞ্চলের শতাধিক কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এতে অতিথিরা বলেন, লিয়াকত আলী মজুমদার কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলেন। তাই ছোট পদ থেকে বড়পদে এসেছেন। ব্যবস্থাপনা ভালো জানতেন বলে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রিয় ছিলেন। তিনি রেলওয়ের প্রতি আন্তরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের মতো কর্মকর্তাদের কারণে নানা সংকটেও রেলওয়ে তার সুনাম ধরে রাখতে পেরেছেন।