বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১৩:২০ পিএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১৩:২০ পিএম
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর বাজারের এক চা দোকানির বিদ্যুৎ বিল এক মাসে দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ৩ লাখ ১ হাজার ৭৪৬ টাকা। হঠাৎ এ ভুতুড়ে বিল পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েছেন দোকানি অপূর্ব কুন্ডু ও তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লখপুর বাজারের এক কক্ষের ছোট্ট চায়ের দোকানটি বহু বছর ধরে চালিয়ে আসছে কুন্ডু পরিবার। বর্তমানে দোকানটি পরিচালনা করেন অপূর্ব কুন্ডু, তার মা তপতী রানী কুন্ডু ও স্ত্রী। দোকানে রয়েছে মাত্র দুটি বাল্ব, একটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ। এর আগে নিয়মিত প্রতি মাসে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আসতো। গত মাসে অতিরিক্ত বিল এসেছিল ১ হাজার ৮৭৬ টাকাÑ যা ফকিরহাট জোনাল অফিসে সংশোধনের পর ৩১৬ টাকা করা হয়।

কিন্তু চলতি মাসে যখন বিল হাতে পান, তাতে দেখা যায় ৩ লাখ টাকার বেশি। এ বিল দেখে হতভম্ব হয়ে যান অপূর্ব কুন্ডু ও তার পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এসে বিলটি নিয়ে যান।
অপূর্ব কুন্ডু বলেন, এতদিন নিয়মিত বিল দিয়েছি। হঠাৎ করে কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত বিল আসছে। এতে আমরা ভীষণ ভোগান্তিতে পড়েছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল আর না হয় সে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শুধু অপূর্ব কুন্ডু নন, লখপুর এলাকার আরও অনেক গ্রাহকের নামেও এভাবে অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিল আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের দাবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় এ ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফকিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহা ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আনন্দ কুমার কুন্ডু বলেন, বিলিং সহকারীর ভুলের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে ভুলটি সংশোধন করে অপূর্ব কুন্ডুর হাতে ৩১০ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিলিং সহকারীকে শোকজ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈটপুর গ্রামের চা দোকানি তাইজুল ইসলামের নামে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকার বিল করা হয়েছিল। অথচ তার প্রকৃত বিল ছিল মাত্র ১৬২ টাকা।