কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ২১:২৫ পিএম
প্রবা ফটো।
অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্য মতে নগদ ৪ লাখ টাকা গহিন পাহাড়ের একটি জায়গায় রাখার কিছুক্ষণ পরেই অপহৃত ছেলেকে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে পিতা। ছেলে হাতে পাওয়ার পর নিজেই এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের সেন্টমার্টিন কোনাপাড়ার বাসিন্দা নুর হোসেন।
এর আগে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে চিকিৎসক দেখানোর পাশাপাশি মুদির দোকানের মালামাল ক্রয় করতে এসে তার ছেলে মো. হাসিম (২৮) অপহরণের শিকার হয়েছিল। এরপর মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও অনেক দর কষাকষির পর ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার চুক্তিতে বুধবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে অপহরণকারীরা ছেলেটিকে ছেড়ে দেয় বলে তথ্যটি জানান তিনি।
নুর হোসেন বলেন, অপহরণের পর মুক্তিপণের জন্য দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে ছেলেকে। তাদের কথা মতে টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে অপহরণকারীদের দেওয়া তথ্য মতে টেকনাফের জাদিমুরা গহিন পাহাড়ের একটি জায়গায় একা গিয়ে টাকাগুলো বিকাল ৪টার দিকে রেখে আসেন। বিকাল ৫টার দিকে একই পাহাড়ে ছেলেকে ফেরত পান তিনি। ছেলে অসুস্থ। তাকে নির্যাতন করেছে দফায় দফায় এজন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মো. হাসিম গত ১০ আগস্ট রবিবার সকালে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। টেকনাফে পৌঁছে কথাবার্তা হয় এবং তার অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক দেখাবে এবং দোকানের জন্য মালামাল ক্রয় করবেন। পরে ১৬ আগস্ট শনিবার কাজ শেষ করে দোকানের জন্য মালামাল ক্রয় করে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা করার জন্য টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া নৌঘাটের সার্ভিস ট্রলারের অফিসে গিয়েছিল। এরপর থেকে ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত ১৬ আগস্ট শনিবার ইমো নম্বরে অপরিচিত এক ব্যক্তি ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের তথ্য বলছে, এ নিয়ে গত সাড়ে ১৮ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫৬ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।