মেহেরপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:০৯ পিএম
মেহেরপুরে উন্নতমানের সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চারা উৎপাদন করছে ম্যাক্সিম নার্সারি।
বারোমাসি সবজির চারা উৎপাদনে এরইমধ্যে মেহেরপুরে প্রতিষ্ঠা হয়েছে নতুন একটি নার্সারি। জেলা শহরের উপকণ্ঠে ময়ামারি সড়কের পাশে ১০০ শতক জমির ওপর গড়ে উঠেছে ‘ম্যাক্সিম এগ্রো’ নামের নার্সারিটি।
প্রতিষ্ঠার পর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বারোমাসি সবজির চারা উৎপাদন করছে। প্রতি মাসে তিনলাখ চারা উৎপাদন সক্ষম এই নার্সারি থেকে মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা চারা কিনছেন।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এখানে সবজির চারার ব্যবসা খুব ভালো হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জেলা শহরের মায়ামারি সড়কে ট্রে পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চারা উৎপাদনে পুরো নার্সারি নেট দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বীজ বপণ শুরু হয়। ২৫ থেকে ৩০ দিন পর চারা বিক্রির উপযোগী হয়।
এখান থেকে সুলভমূল্যে চারা কিনে জমিতে রোপণের পর ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে নার্সারি মালিকও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁপে, বেগুন, মিষ্টি লাউ, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ থেকে চারা উৎপাদন হচ্ছে।
নার্সারির ম্যানেজার রাসেল হোসেন বলেন, তাদের নার্সারির বৈশিষ্ট হলো, চারা উৎপাদন। যেখানে সবজি চাষে কোনো প্রকার বিষ বা কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় না। এখানে গাছের উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে কম্পোস্ট সার, গোবর ও পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় সেক্স ফেরোমন ফাঁদ।
ম্যাক্সিম এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকা, যশোরের পরে এই প্রথম মেহেরপুরে সবজি চারা উৎপাদন করছেন। মেহেরপুর জেলা কৃষি নির্ভর হওয়ার কারণে কৃষকের হাতের নাগালে চারা পাওয়ার সুবিধা দিতেই মেহেরপুরে চারা উৎপাদন ফার্ম দিয়েছেন। মেহেরপুরে উৎপাদিত চারা অন্য জেলাতেও সরবরাহ করছেন।
সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের কিবরিয়া বলেন, ‘এখান থেকে বারো হাজার ফুলকপির চারা নিয়েছি। চারাগুলো সুস্থ সবলভাবেই বেড়ে উঠছে। আশা করি ফুলকপি ভালোই উৎপাদন হবে।’
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘মেহেরপুর সবজি চাষের উপযোগী হওয়াতে অনেকেই সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি ঢাকা, বরিশাল অঞ্চলে যায়। সবজি চাষিরা বিভিন্ন কারণে ভালো মানের চারা তৈরি করতে পারে না। আমার জানা মতে অনেকেই এখান থেকে বিভিন্ন সবজির চারা মাঠে লাগিয়ে সফল হয়েছেন।’