নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১১:২২ এএম
প্রতীকী ছবি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের একটি ছোট্ট গ্রামে ঘটেছে এক অভাবনীয় ঘটনা। দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার ঘরে মাত্র একটি ফ্যান ও একটি বাতি ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা! বিদ্যুৎ অফিসের দাবি, এটি একটি ‘কম্পিউটার ভুল’। কিন্তু এই একটি ঘটনা নয়, চলতি আগস্ট মাসে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক গ্রাহক দ্বিগুণ থেকে শুরু করে কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েছেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র ও বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বহীনতায় প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নাকি ১০ হাজার ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। বিলম্ব ফি ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৫ টাকা। অথচ জুন মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল মাত্র ১০৫ টাকা।
কাজী ছাওধন মিয়া জানান, আমার ঘরে একটি ফ্যান আর একটি বাতি ছাড়া কিছুই নেই। ঘরে প্রতিমাসে দুই-তিনশ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আসত না। এক ফ্যান ও এক বাতির ব্যবহার দেখিয়ে চলতি আগস্ট মাসে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকার ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আমি এই বিল দেখে হতবাক হয়ে যাই। মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরছি। তারা বলেছেন বিলটা ঠিক করে দেওয়া হবে। এ বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর সর্বত্র তোলপাড় হলেও সংশোধনের তেমন গতি নেই।
শুধু কাজী ছাওধন মিয়ার বিল নয়, চলতি আগস্ট মাসে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলার হাজারো গ্রাহক দেড় থেকে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিলে ভুক্তভোগী হয়েছেন।
দৌলতপুর গ্রামের বদরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য দুটি মিটার লাগিয়েছি। কিন্তু এখন আগের চেয়ে আরও বেশি বিল আসে। আরেক গ্রাহক ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বিল আসত। অথচ এ মাসে এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে কাজল মিয়া নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশীর মিটারে ১ হাজার ২২০ ইউনিট দেখালেও বিলে ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ ইউনিট। এইভাবে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে।
বিল প্রস্তুতকারী কর্মচারী ক্ষমা দাশ বলেন, ইচ্ছে করে নয়, কম্পিউটারের ভুলের জন্য এমনটা হয়েছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার বিল কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ভুলের কারণে হয়েছে। বিল প্রস্তুতকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তার বিল ইতোমধ্যে সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ভুল হবে না।