অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১১:০১ এএম
নৌবন্দর বাস্তবায়নে সারিয়াকান্দি নৌঘাট এলাকায় জরিপ চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএর ইনল্যান্ড সার্ভে ভেসেল ঝিনাই-২। প্রবা ফটো
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর হওয়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণে ইতোমধ্যেই সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কয়েকদিন ধরে সারিয়াকান্দি নৌঘাট এলাকায় জরিপ চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএর ইনল্যান্ড সার্ভে ভেসেল ঝিনাই-২।
দীর্ঘদিন থেকেই সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌপথ ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে আসছেন। এ পথে জামালপুর হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের দূরত্বও কম। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এই রুটে চলাচল করেন। ফলে সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর গড়ে তোলা শুধু এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি নয়, বরং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
অন্যদিকে বগুড়া ও আশপাশের জেলাগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ শস্যভান্ডার। এখানে ধান, সবজি, আলু ও নানা কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর হলে এসব কৃষিপণ্য স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে বগুড়ার শিল্পপণ্য পরিবহনেও বড় সুবিধা তৈরি হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে পরিবহন খরচ কমবে ও কৃষকের লাভ বাড়বে।
এলাকাবাসী জানান, সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ কিংবা সার কারখানা স্থাপনের মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবার তারা সর্বশেষ দাবি হিসেবে নৌবন্দর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে নৌবন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) হোসনা আফরোজা। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে কয়েক মাস আগে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা সারিয়াকান্দি নৌঘাট সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি নৌবন্দর স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এখন চলছে জরিপকাজ।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) হোসনা আফরোজা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নৌবন্দর বাস্তবায়ন নিয়মিত বাজেটের মধ্যেই সম্ভব। এখানে মাত্র ৯ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ প্রয়োজন হবে। দূরত্ব কম হওয়ায় দ্রুতই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে নদীশাসন কার্যক্রম চালু থাকলে ভাঙনও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। চরাঞ্চলে যে ফসল উৎপাদিত হয়, কৃষকরা তার ন্যায্য দাম পান না। নৌবন্দর হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।