ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১৫:১৩ পিএম
এক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন রেদওয়ান ও জহুরুল। সেই বন্ধুত্বই কাল হয়ে দাঁড়ায় রেদওয়ানের জীবনে। একটি আইফোন চুরি ও উদ্ধারকে কেন্দ্র করে জমে থাকা বিরোধ শেষ পর্যন্ত রেদওয়ানকে জীবন দিতে বাধ্য করে বন্ধুর হাতে। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের চাড়ালদিয়া গ্রামে।
নিহত রেদওয়ান (২৫) সদরপুর উপজেলার বাইশরশি গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবু বক্কর সোহেলের ছেলে। ঘাতক জহুরুল মুন্সী (২৬) তুজারপুর ইউনিয়নের চাড়ালদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক লোকমান মুন্সীর ছেলে।
জানা যায়, মাদ্রাসা জীবন থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তারা। কিন্তু কয়েক বছর আগে রেদওয়ানের ব্যবহৃত আইফোনটি মাদ্রাসা থেকে চুরি হলে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তে সেই ফোন জহুরুলের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই জহুরুল মনে মনে ক্ষোভ পোষণ করতে থাকে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) পরিকল্পিতভাবে রেদওয়ানকে ফোন করে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয় জহুরুল। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে রাতে নিজের ঘরে রেদওয়ানের গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করে এবং পরে লাশ বালির বস্তা ও জিআই তার দিয়ে বেঁধে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রেদওয়ান নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা সদরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। চার দিন পর, রবিবার (১৭ আগস্ট) চাড়ালদিয়া বিলে একটি অর্ধগলিত লাশ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে, পরিবারের সদস্যরা দাড়ির চিহ্ন দেখে শনাক্ত করেন রেদওয়ানকে।
পরে ফরিদপুর র্যাব-১০ এর একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক জহুরুলকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরি, মোটরসাইকেল ও রেদওয়ানের ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের কমান্ডার তরিকুল ইসলাম জানান, জহুরুল একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং পূর্ব থেকেই এটি তার পরিকল্পনার অংশ ছিল।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন জানান, রেদওয়ানের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নির্মম এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।