চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার চন্দনাইশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, পুলিশের কাজে বাধা এবং আঘাতের ঘটনায় প্রধান আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়রাও বলছেন, কিশোর গ্যাং নেতা শাকিল অনেক বেশি বেপরোয়া। একটি ছাগলের হাটকে কেন্দ্র করে শাকিল সেদিন মিছিল করেছিল। তবে এটিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে পুলিশ।
১১ আগস্ট রাত ২টার দিকে সল্টগোলা ক্রসিংয়ে মিছিল করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশের বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ ওরফে রানা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইন ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করেছে পুলিশ। মুখে শাকিলের নেতৃত্বে হামলার কথা বললেও দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়েছে বন্দর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল আজিমকে। আব্দুল আজিমের পরিবারের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সেই রাতে আমার চাচাসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যেককে তাদের ঘর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা করা কেউ নিশ্চয় ঘরে বসে ঘুমাবে না? প্রকৃতপক্ষে সেদিনের ঘটনাটা অরাজনৈতিক ছিল। শাকিল আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। জুয়েলের ছাগলের হাটের বিরুদ্ধে শাকিল অতর্কিত সেখানে মিছিল করে। সেটাকে কেন্দ্র করে যখন তাকে ধরতে আসে, সেসময় কোমরে থাকা ছুরি দিয়ে শাকিল এসআই আবু সাইদ রানাকে আঘাত করে। ওই সময় পুলিশ ছিল নির্বিকার। কিন্তু পরে এসে এটা নিয়ে রীতিমতো পুরো এলাকায় তাণ্ডব চালায় পুলিশ। এ ঘটনা কেন্দ্র করে পুরো এলাকার মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, ‘তদন্তের বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’ ছুরিকাহত দারোগা একটু এদিক-ওদিক হলে মারা যেতে পারত।’
বন্দর থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ওরা জয় বাংলা বলে মিছিল দিয়েছিল। শাকিলকে প্রধান আসামি বললেও দুই মামলায় আজিমকে প্রধান আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু আজিম গ্রেপ্তার হয়েছে সেজন্য এজাহারে আজিমের নাম প্রথমে এসেছে। তবে মামলায় লেখা আছে শাকিলের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে।
এর মধ্যে পুলিশের সামনে অস্ত্র বের করলেই সরাসরি গুলির নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ। এক ওয়ারল্যাস বার্তায় তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না। বন্দরে (বন্দর থানা) একজন এসআই গুরুতর আহত হয়েছেন। আরেক দিন আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। পুলিশের কোনো টহল পার্টির সামনে অস্ত্র বের করলে, আই রিপিট, অস্ত্র বের করে গুলি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই।