সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ২১:৪৪ পিএম
কথিত ওঝা আয়নাল হোসেনের ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ গেল অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী অহনা দাশের (১৫)। সাপে কামড়ানোর পর টানা চার দিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
অহনা দাশ মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নরেন্দ্রনাথ দাশের মেয়ে এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এনএল দাশের ভাতিজি। সে ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে বাড়ির বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছিল অহনা। সন্ধ্যার আগে উঠোন থেকে একটি বিষধর সাপ একটি ব্যাঙকে তাড়া করে বারান্দার দিকে নিয়ে আসে। শিকার ধরতে ব্যর্থ হয়ে সাপটি অহনার পায়ের আঙুলে দুবার ছোবল দিয়ে চলে যায়। যন্ত্রণায় কাতর অহনা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষতস্থানের ওপর পরপর চারটি বাঁধন দিয়ে তাকে পাশের দেয়া গ্রামে কথিত ওঝা আয়নাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান।
সেখানে আয়নাল হোসেন কবিরাজি চিকিৎসা দিতে গিয়ে অহনার পায়ের সব বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে হাঁটাহাঁটি করান। এতে অহনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ওই ভণ্ড ওঝা নিজেই অপারগতা প্রকাশ করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন। বিষয়টি জানার পর অহনার কাকা ডা. এনএল দাশ দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ৪টি এন্টিভেনম দেওয়া হয় এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে মারা যায় অহনা দাশ। শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকালে পিরোজপুর মহাশ্মশানে হৃদয়বিদারক পরিবেশে অহনাকে সমাধিস্থ করা হয়।
বর্তমানে সাপে কামড়ানো রোগীর জন্য সরকারি হাসপাতালে এন্টিভেনমের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ গ্রামীণ মানুষের অজ্ঞতা ও সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে আয়নাল হোসেনের মতো ভণ্ড ওঝারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এ ধরনের প্রতারকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনগতভাবে কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি বলে মনে করছে সচেতন মহল।
কালীগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।