আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৪২ পিএম
বরগুনার আমতলীতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীকে ৩৮ বছর বয়সী সৌদিপ্রবাসীর সঙ্গে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি বাবার বাড়ি চলে আসে। পরে স্বামীর বাড়ি যেতে অস্বীকার করায় মেয়েসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করেছে বাবা ও তার স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকালে নাচনাপাড়া গ্রামে। আহতদের পুলিশ উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ এপ্রিল নাচনাপাড়া গ্রামের আবু জাফর হাওলাদারের মেয়ে জান্নাতুলকে (১৩) জোর করে কড়াইবুনিয়া গ্রামের সৌদিপ্রবাসী আব্দুল হালিম হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে জান্নাতুল স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ তার। এ কারণে গত ২২ জুলাই সে বাবার বাড়ি ফিরে আসে এবং জানায় আর স্বামীর কাছে যাবে না।
কিশোরী জান্নাতুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে জোর করে একজন বয়স্ক লোকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আমি আর তার বাড়িতে যাইনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বাবা, চাচা ও দাদাসহ কয়েকজন মিলে আমাকে, আমার মা, বোন, মামা ও মামিসহ ছয়জনকে মারধর করেছে।’
কিশোরীর মা আইরিন বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এত অল্প বয়সে আমার স্বামী, শ্বশুর ও আত্মীয়রা মিলে ৩৮ বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়েছে। মেয়েকে আবার জোর করে স্বামীর বাড়ি পাঠাতে চাইলে অস্বীকার করায় আমাদের মারধর করা হয়।’
অন্যদিকে, বাবা আবু জাফর হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মেয়ে স্বামীর বাড়ি যেতে না চাওয়ায় আমি শুধু গালাগাল করেছি, মারধর করিনি।’
স্বামী আব্দুল হালিম হাওলাদারও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসই হয়নি, তাহলে নির্যাতন করলাম কীভাবে?’
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক জানান, আহতদের চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’