চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৩৮ পিএম
কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা এলাকায় বিয়ের প্রলোভনে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত ১১টার দিকে। এরপর বুধবার সকালে ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তবে ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলা হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী নুরুল হুদার ছেলে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ইমোতে পরিচয় হয় ভিকটিমের। সোমবার রাতে আরিফ ভিকটিমের ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে দরজা ভেঙে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে স্থানীয়রা জড়ো হলে সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার রফিক আলম বিচার করার আশ্বাস দিয়ে আরিফকে নিজের জিম্মায় নেন।
ভিকটিমের পিতা বাদশাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘সর্দার রফিক আলম পরদিন সকালে বিচারের কথা বলে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে জানান, আরিফ পালিয়ে গেছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্ষককে পালাতে সহায়তা করেছেন। আমার মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী। আমি মেয়ের ন্যায্য বিচার চাই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসাইন শহিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘মঙ্গলবার বিষয়টি জানার পর ভিকটিমের পরিবারকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি।’
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সর্দার রফিক আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দুপক্ষের সম্মতিতে বৈঠক হয়েছিল। পরে ভিকটিমের পরিবার সরে আসে। আমি আরিফকে জিম্মায় নেইনি। মেয়ের দাদা সিরাজুল ইসলাম তাকে ছেড়ে দিয়েছে।’
ধর্ষণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এধরনের অনেক ঘটনা আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছি।’ এরপর তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘এধরনের ঘটনা আমি প্রথমবার শুনলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’