মাছভর্তি পিকআপ খাদে
সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৪৮ পিএম
ফরিদপুরের নগরকান্দায় দুর্ঘটনায় মাছবোঝাই একটি পিকআপ পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে। এতে পিকআপে থাকা মাছ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকার লোকজন সেই মাছ ধরে নিয়ে যান।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে ডাঙ্গী ইউনিয়নের যদুরদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পশ্চিমপাশে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, পাবদা মাছভর্তি ওই পিকআপটি ফরিদপুরের দিক থেকে ভাঙ্গার দিক যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে খাদের পানিতে পড়ে যায়। এতে সব মাছের ঝুড়ি পানিতে তলিয়ে যায় এবং সব মাছ বের হয়ে যায়। দুই ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে রেকার এনে পিকআপটি খাদের পানি থেকে তোলা হয়। ওই সময় পিকআপের লোকজন যতটা সম্ভব মাছ উদ্ধার করে পিকআপটি নিয়ে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ (৫৫) বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রামের লোকজন এলাকায় ছুটে আসে। পিকআপটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পর ভোর ছয়টা থেকে এলাকার লোকজন খাদের পানিতে নেমে পড়ে এবং মাছ ধরতে শুরু করে। শিশু, নারী, যুবক ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের লোক খাদের পানিতে নেমে মাছ ধরতে থাকে। কে কত মাছ ধরতে পারেন, তার অলিখিত প্রতিযোগিতা লেগে যায়। সৃষ্টি হয় উৎসবমূখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ খ্যাপলা জাল নিয়ে এসেছেন, কেউবা মাছ ধরছেন গামছা দিয়ে, আবার কেউ কেউ হাত দিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত।
উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ ধরার দৃশ্য দেখার জন্য মহাসড়কে ভিড় করেন অর্ধশতাধিক লোক। এ সময় এক বালতি মাছ ধরে সড়কে উঠে আসেন ফাতেমা বেগম (২৮) নামে এক নারী। তার চোখে-মুখে আনন্দ। তিনি মাছের পাশাপাশি দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপের একটি হেডলাইটও খুঁজে পেয়েছেন। সেটিও নিয়ে এসেছেন বালতিতে করে।
ফাতেমা বেগম জানান, প্রায় ১০ কেজি মাছ তিনি ধরতে পেরেছেন। তবে কিছুটা আফসোসের সুরে বলেন, অন্যরা তার থেকে অনেক বেশি মাছ ধরেছেন।
ওই জায়গায় কথা হয় মাইনুদ্দীন আহমেদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার হামেরদী ইউনিয়নের মহেশ্বর্দী গ্রাম থেকে মাছ ধরার দৃশ্য দেখতে এসেছেন। মাইনুদ্দীন জানান, সকাল থেকে তিনি মাছ ধরা দেখছেন। যা ধরা হচ্ছে, সবই পাবদা মাছ। যারা মাছ ধরছেন, কেউ খালি হাতে ফিরে যাননি। কেউ কেউ ১৫ কেজি থেকে আধামণ পর্যন্ত মাছ ধরতে পেরেছেন। তবে এ মাছভর্তি পিকআপটি কোথা থেকে এসেছিল এবং কোথায় যাচ্ছিল কিংবা তাতে কী পরিমাণ মাছ ছিল এবং এ মাছ ব্যবসায়ীর নাম কি, তা কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।