যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৫২ পিএম
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ২০:১৫ পিএম
গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান জনি।
যশোরের অভয়নগরে আলোচিত ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে মাটিতে পুঁতে রেখে নির্যাতন এবং চার কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের মামলার অন্যতম পলাতক আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নগরীর একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে খুলনার রোজ গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে যশোর ও খুলনা মহানগর পুলিশের একটি দল। আটকের পরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভয়নগর নিয়ে আসেন তার বাড়িতে ও তার পার্কে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আসাদুজ্জামান জনি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, দলীয় পদ হারানোর পরও তিনি বিভিন্ন সময় এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
উল্লেখ্য গত রবিবার অভয়নগর নওয়াপাড়ার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের নামে অভয়নগর থানায় চাঁদাবাজি একটি মামলা করেন। অভিযুক্তরা– নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট হোসেন, কনা ইকো পার্কের মালিক কামরুজ্জামান, নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরী ও গরুহাটখোলার সৈকত হোসেন হিরা। মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ও জনির সহযোগী ডিশ ব্যবসায়ী মিঠুকে সোমবার গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামী জনি ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান।
এজাহার জানা যায়, অভয়নগরের ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপু ২০২৪ সালের শেষদিকে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামি জনি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে টিপুকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাটিতে কোমর পর্যন্ত পুঁতে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে চার কোটি টাকা দাবি করা হয়। এ সময় টিপু বাধ্য হয়ে তাঁর ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। ম্যানেজার প্রেস ক্লাবের সম্পাদক মফিজের অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা আরটিজিএস করেন। এ সময় মফিজুর আরও এক কোটি টাকার চেক আদায় করেন। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয় দেখানো হয়, যাতে তারা পুলিশে অভিযোগ না করেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আবুল বাশার বলেন, আটকের পর পরই জনিকে অভয়নগরের নিয়ে আসা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তার দেখানো স্থানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, যৌথবাহিনী আসাদুজ্জামান জনিকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তার কাছ থেকে মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের অবস্থান এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।