শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৩১ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে এটিএম বুথ থেকে বেতনের টাকা তুলে বাসায় ফেরার পথে সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা থেকে পোশাক শ্রমিক জুবায়দুল ইসলাম আলমকে (২৯) অপহরণের করেছে দুষ্কৃতকারীরা। এ ঘটনায় অপহৃতের মামা আব্দুল আলীম শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য জানান। এর আগে, সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (আসপডা মোড়) থেকে অজ্ঞাত ৩/৪ ব্যক্তি জুবায়দুল ইসলামকে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে মাওনা চৌরাস্তার দিকে নিয়ে যায়। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এদিন রাত পৌনে ১২টায় শ্রীপুর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন অপহৃতের মামা।
জুবায়দুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চোয়াগিরিস গ্রামের আব্দুছ ছালামের ছেলে। সে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী (লিচু বাগান) এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ লিঃ (এসজিএল) পোশাক কারখানার সুইং সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করেন।
অপহৃতের মামা আব্দুল আলীম বলেন, পরে সে তার মোবাইল থেকে স্ত্রীর কাছে ফোন করে বলে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে আমাকে বাঁচাও। অপহরণকারীরা আলমের মোবাইল থেকে তার সহকর্মী রবিউল হাসানের মোবাইলে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। এ সময় এটিএম বুথ থেকে উঠানো তার সাথে থাকা বেতনের ৩০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের দিয়ে দেন জুবায়দুল। তিনি জানান, তাকে প্রাণে বাঁচাতে হলে তাদের মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। গাড়ির ভেতর তাকে আটকে মারধর করছে বলে ফোন কেটে দেয় জুবায়দুল।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০টায় জুবায়দুল ইসলামের সাথে তার সর্বশেষ কথা হয়। তার মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে বলে আমাকে আর বাঁচাতে পারবেন না। টাকা আপনারা দিলেন না মামা। মামা, আমাকে আর বাঁচাইতে পারলেন না। পরে আমি বলি টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করতেছি বললে লাইন কেটে দেয়। পরে রাতে অনেকবার চেষ্টা করেছি যোগাযোগ করার জন্য। তার মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায় এবং মাঝে মাঝে খোলা থাকলেও রিসিভ করে না। রাত ১টার দিকে জুবায়দুল তার ছোট বোন সোমা আক্তারের (গাইবান্ধা শ্বশুর বাড়িতে থাকে) মোবাইলে ফোন করে বলে বোন তোমরা টাকা গুছাও তাড়াতাড়ি ওরা আমাকে মাইরা ফেলবে।
অপহৃত পোশাক শ্রমিক জুবায়দুল ইসলাম সহকর্মী রবিউল হাসান বলেন, সে (আলম) তার মোবাইল থেকে তাকে ফোন করে শুধু বলেছে, আমাকে তোমরা বাঁচাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর থেকে তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার পণ্ডিত বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ধারণা করতে পেরেছে জুবায়দুল ইসলামের সাথে তার পারিবারের কারো বিরোধ থাকতে পারে। ওই বিরোধের কারণে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। তারপরও আমরা অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধারসহ প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব।