জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৩:১৪ পিএম
জয়পুরহাটে একটি ব্যাংকে ভুয়া রশিদ জমা দিয়ে সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স মামুন ব্রাদার্স চালকল নামে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ডিলারের ছেলে হাসিব আল মামুনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাতে জেলা শহরের সিও কলোনি এলাকায় বিসিআইসি বাফার গুদাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হাসিব আল মামুন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মামুনুর রশিদের ছেলে। তিনি মেসার্স মামুন ব্রাদার্স চালকলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সার উত্তোলন করতে এসেছিলেন।
সোমবার (১১আগস্ট) বিকেলে মেসার্স মামুন ব্রাদার্স চালকল মালিকের ছেলে হাসিব আল মামুন ওই ডিলারের প্রতিনিধি হিসেবে সার উত্তোলন করতে এসেছিলেন বলে বাফার গুদাম ও মামলা সূত্রে জানা যায়। সার উত্তোলনের আগে তিনি জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে সাড়ে ৭ লাখ ও ৯ লাখ টাকা জমা দেওয়ার দুটি জমা রশিদ (চালান) দেন। এই চালানগুলো যাচাইয়ের জন্য ব্যাংকের দুটি শাখায় খোঁজ নেয়া হয়।
এর মধ্যে জনতা ব্যাংক জয়পুরহাট শাখায় জমা দেওয়া সাড়ে ৭ লাখ টাকার চালানটি সঠিক ছিল। কিন্তু একই ব্যাংকের পাঁচবিবি শাখায় জমা দেওয়া ৯ লাখ টাকার চালানটি ভুয়া। এই চালানের স্বাক্ষর, সীলসহ পুরোটাই জাল ছিল। এটির সত্যতা যাচাইয়ের পর বিকেল ৪টা হাসিব আল মামুনকে বাফার গুদাম থেকে আটক করা হয়। রাত ১০টার দিকে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জয়পুরহাট বাফার গুদামের উপ-ব্যবস্থাপক (বাণি:) দীলিপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নিয়ম অনুযায়ী একাউন্টে টাকা জমা হয়েছে কিনা সেটা আমাদের নিশ্চিত হয়ে সার দিতে হয়। কিন্তু উনার একটি চালানে টাকা জমা হয়েছে আর একটি চালানে টাকা জমা হয়নি। এটি আমরা ব্যাংকের মাধ্যমে ভেরিফাই করতে পারি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এটি ভুয়া বলে স্বীকার করেন। পরে আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বিষয়টি অবগত করি, তিনি এসে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
সদরের ইউএনও মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাফার গুদামে একজন ডিলার প্রতারণামূলকভাবে একটি চালান তৈরি করে সার উত্তোলনের জন্য এসেছিলেন। এখানকার ইনচার্জের কাছে এটি ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে ৯ লাখ টাকার একটি চালানের প্রতারণার ঘটনার সত্যতা আছে বলে মনে হয়েছে।