রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪২ পিএম
গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রবা ফটো
রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জামাই-শ্বশুরকে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল গভীর রাতে বুড়ির হাট এলাকায় নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের চরকডাঙ্গা বালাপুর গ্রামের আলেফ উদ্দিনের ছেলে আখতারুল ইসলাম, রহিমাপুরের আইয়ুব আলীর ছেলে মিজানুর রহমান, বুড়িরহাট ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জাফর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং সয়ার বালাপাড়ার আজিুল ইসলামের ছেলে ইবাদত আলী।
এ তথ্য নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, মামলার পর তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ও তারাগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের টহল টিমের সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত শনিবার উপজেলার বুড়িরহাট বটতলীতে চোর সন্দেহে রূপলাল ও তার ভাগনি জামাই প্রদীপ দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছর রূপলালের মেয়ে নূপুর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। রবিবার সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের লালচানের ছেলে কমলের সঙ্গে তার বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হওয়ার কথা ছিল। মুচি সম্প্রদায়ের বিয়ের উৎসবে বাংলা মদ পরিবেশনের রীতি রয়েছে। তাই শনিবার রূপলাল ও জামাই প্রদীপ সৈয়দপুরের ভাটিখানা থেকে বোতলে করে বাংলা মদ সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
তারা বুড়িরহাট এলাকার বটতলায় এলে কিছু যুবক তাদের মদভর্তি ব্যাগ কেড়ে নেয় এবং চোর চোর বলে চিৎকার করে। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রূপলাল ও প্রদীপকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলে রূপলালের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রদীপকে প্রথমে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোর ৪টার দিকে প্রদীপের মৃত্যু হয়।