সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৪৬ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৪৯ পিএম
লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের এক লাখ টাকা না পেয়ে হাসান মাহমুদ নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় বসে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকনের জিম্মায় হাসানকে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিহত ফাতেমার বাবার বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত হাসান টুমচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টুমচরের কালিচর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন নিহত ফাতেমার বাবা আবুল খায়ের, মা মরিয়ম বেগম, ভাই আবু হেনা, স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন প্রমুখ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে ভাই আবু হেনা বলেন, ৭ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিয়ের ৩ মাস পরই সে তাকে মারধর শুরু করে। আমার বোনের ২ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ৬ মাস। গত বুধবার ফাতেমা আমাদের বাড়ি থেকে টুমচর শ্বশুরবাড়িতে যায়। হাসান তার মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চেয়েছে। আমরা টাকা দিতে পারিনি। খালি হাতে বাড়ি যাওয়ার কারণেই যেভাবেই হোক হাসান আমার বোনকে হত্যা করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে আসছে। হাসান পরকিয়ায় আসক্ত ছিল, সে ভিডিও কলে অন্য মেয়ের সঙ্গে কথা বলে, ফাতেমা আমাকে তা জানিয়েছে। বিভিন্ন সময় সে আমার বোনকে নির্যাতন করত।
যৌতুক না দেওয়ায় হাসান পরিকল্পিতভাবে ফাতেমাকে হত্যা করেছে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতের মা, বাবা ও প্রতিবেশীরা।
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আমি ফাতেমাকে ভালোবাসি। আমি তাকে হত্যা করিনি। সে স্ট্রোক করে মারা গেছে।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন বলেন, থানায় দুপক্ষ উপস্থিত ছিল। পরে পুলিশ আমার জিম্মায় হাসানকে আপাতত ছেড়ে দিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ফাতেমাকে হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত পায়। পরে দুপুরে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রতিবেদন পেলে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যাবে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আনা হয়। পরে দুই পরিবারের লোকজন এসেছিল। একপর্যায়ে তাকে যুবদল নেতা লিংকনের জিম্মায় দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।