রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০২ পিএম
মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার আগের দিন গণপিটুনীতে মৃত্যু হলো রূপলালের (৪৩)। শনিবার (৯ আগস্ট) রাত ৯টায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাটে চোর সন্দেহে গণপিটুনীতে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় রবিবার (১০ আগস্ট) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত ভাগ্নি জামাই প্রদীপ (৪২) মারা যান।
নিহত রূপলাল তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় মুচি, তারাগঞ্জ বাজারে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন। অপরদিকে ভাগ্নি জামাই প্রদীপ মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ছড়ান গ্রামের বাসিন্দা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক।
ওসি ফারুক স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, চলতি বছর রুপলালের মেয়ে নুপুর এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে। রবিবার সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের লালচাঁনের ছেলে কমলের সঙ্গে তার বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হওয়ার কথা ছিল। মুচি সম্প্রদায়ের বিয়ের উৎসবে বাংলা মদ পরিবেশনের রীতি রয়েছে। তাই শনিবার রূপলাল ও জামাই প্রদীপ সৈয়দপুরের ভাটিখানা থেকে বোতলে করে বাংলা মদ সংগ্রহ করে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা বুড়িরহাট এলাকার বটতলায় এলে কিছু যুবক তাদের মদভর্তি ব্যাগ কেড়ে নেন এবং ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রূপলাল ও প্রদীপকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে ঘটনাস্থলে রূপলালের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রদীপকে প্রথমে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোর চারটার দিকে প্রদীপের মৃত্যু হয়।
তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক বলেন, নিহত রূপলালের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।