প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১৪ পিএম
নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। প্রবা ফটো
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ভিসা প্রতারকের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। শনিবার (৯ আগস্ট) বিকাল ৪টায় কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া অচিনা ডাংগা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন কিশোরীগঞ্জের নিতাই ইউনিয়নের মো. আশরাফ আলীর ছেলে মো. দুলাল হোসেন (৪৬) ও নীলফামারী সদরের দাড়োয়ানী মোল্লাপাড়া এলাকার মৃত ইনসানের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৪৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আটক দুইজন বাগিচাপাড়ার মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে তারিকুল ইসলামের কাছ থেকে ডিবি পরিচয়ে টাকা দাবি করে। এ সময় তিনি কৌশলে তাদেরকে তার বড় ভাই ভুট্টোর বাড়ি অচিনের ডাঙা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে ভূয়া ডিবি বলে চিৎকার করেন। এতে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের আটক করেন।
পরে ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে এসআই হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুইজনকে আটক করে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আটক দুলাল ইতোপূর্বেও সৈয়দপুর ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ডিবিতে অভিযোগ থাকার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ভিসা প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের মামলা ও আটকের ভয় দেখিয়ে এই কাজ করে আসছেন। তিনি নিজেকে ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয় দেন।
একইভাবে আজ (শনিবার) তারিকুল ইসলামের কাছে এসেছিলেন। তাদের অভিযোগ, তারিকুল ইসলামও একজন ভিসা প্রতারক। তাই তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন দুলাল। শেষে ৬০ হাজার টাকা দিতে চেয়ে দুলালকে ডেকে এনে ফাঁসিয়েছে। জনতার হাতে আটকের পর দুলাল বার বার নীলফামারী ডিবি অফিসের এসআই জাকির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোন কথা বলতে বলেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে এখানে এসেছেন বলেও জানান।
তারিকুল ইসলাম ভিসা প্রতারণার কথা অস্বীকার করে বলেন, আটক দুলালকে আমরা আগে থেকেই চিনি। তিনি গত এক সপ্তাহ আগে এসে তার মোবাইলে আমার ছবি, আমার মেয়ের ছবি, আমাদের ভোটার আইডি কার্ডের ছবি দেখিয়ে বলে আমার নামে মামলা হয়েছে। ডিবি অফিস থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছেন। দুই লাখ টাকা দিলে তিনি ডিবির মামলা থেকে আমার নাম কেটে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি যেহেতু কোনো ভিসা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নই, তাই মনে হয়েছে দুলাল আমার সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এ কারণে আজকে যখন আবার এসেছে, তাকে আটকে ফেলেছি।
নীলফামারী ডিবি অফিসের এসআই জাকির হোসেন বলেন, দুলাল সোর্স হিসেবে কাজ করার জন্য অনেকবার বলেছে। কিন্তু আমি পাত্তা দেইনি। তবে তিনি আমার নাম করে কোথাও কোনো অপকর্ম করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। আমার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া বা এ ধরনের কোনো অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফইম উদ্দিন বলেন, বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী আটক দুলাল ডিবি অফিসের সঙ্গে পরিচয়ের কথা বললেও নিজেকে ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত নই। তবে দুইজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।