× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সোলার বাতিতে লুটপাট

আলোর মুখ দেখেনি পৌরবাসী, গচ্ছা গেছে ২ কোটি টাকা

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি অর্থ খরচ করেও পৌরবাসী পায়নি কাঙ্ক্ষিত আলোর নিশ্চয়তা। লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল সৌর বিদ্যুতায়িত সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবে তা রূপ নিয়েছে দুর্নীতির মহোৎসবে।  

বেশিরভাগ এলাকায় এখনো সোলার বাতি লাগায়নি আজও। আবার যেসব জায়গায় বাতি লাগনো হয়েছে, সেগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই হয়ে পড়েছে অকেজো। স্থাপিত কিছু এলাকায় টিমটিম করে জ্বলা বাতিগুলোও এখন পুরোপুরি নিভে গেছে। সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় চুরি হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি সোলার প্যানেলের ব্যাটারি। আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পৌর এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত। 

পৌর সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCCTF) প্রকল্প থেকে পৌরসভার জন্য ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে এবং ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকায় চুক্তিবদ্ধভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাওয়ার প্লাস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালের ৮ আগস্ট কার্যাদেশ পান এবং ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্প শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌর কর্মকর্তা জানান, প্রায় দুই কোটি টাকার প্রকল্পের বিপরীতে প্রতিটি সোলারের মূল্য ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫০টি সৌর সোলার স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের মূল ঠিকাদার পাওয়ার প্লাস-এর স্বত্বাধিকারী কাজটি না করে স্থানীয় সাবেক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নুরনবীকে দিয়ে কাজটি করান। মূলত নুরনবী শুধু পুকুর নয় সাগর চুরি করেছে। যদিও নুরনবীর বক্তব্য কোনো ধরনের অনিয়ম করেননি তিনি।

সরেজমিন পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সোলার এখন অকেজো। সন্ধ্যা হলেই দেখা যায় আগের মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত সড়কগুলো। আবার বখাটেদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে এ সকল এলাকা। পৌর ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল গণি জানান, বাতিগুলো সড়কে লাগানোর কয়েকদিনের মধ্যে আর জ্বলেনি। অনেক বাতি রাতের আঁধারে চুরি হয়ে গেছে। পৌর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রতন জানান, বাতিগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় প্রায় বছর পেরোলেও এখনো সংস্কার করা হয়নি।

সোলার স্থাপন প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছ থেকে বাতি স্থাপনের প্রকল্পটি সাব-ঠিকাদারি নেন রামগতি পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নুরনবী। তিনি তৎকালীন পৌর মেয়র মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশে প্রকল্প বাস্তবায়নে করেছেন ভয়াবহ লুটপাট। কার্যাদেশে যে মানের উপকরণ দেওয়ার কথা তা না দিয়ে দিয়েছেন চরম নিন্মমানের প্যানেল, বাতি ও পিলার। যার কারণে প্রকল্পটি পড়েছে অস্তিত্বের সংকটে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্লাসের স্বত্বাধিকারী মো. রফিক সোলার প্যানেল অকেজো হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মেরামতের জন্য লোক পাঠানো হবে। নিন্মমানের উপকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকায় আহছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে ফোন কেটে দেন।

পৌর প্রকৌশলী মাসুদ রেজাকে অসংখ্যবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও উত্তর দেননি।এ বিষয়ে বর্তমান পৌর প্রশাসক ও ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, সোলার বাতির বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ আসার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে, তাই এ বিষয়ে পৌরসভার স্টাফরা ভালো বলতে পারবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা