নদীতে নিখোঁজ
মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১৩:২৯ পিএম
মৌলভীবাজারে বন্ধুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে মনু নদী পার হওয়ার সময় নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজের ৪৩ ঘণ্টা পর সাবেক ক্রিকেটার মছব্বির আহমদের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার মরদেহ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ফেচুর বাজার এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মনু নদীর পালপুর খেয়াঘাটে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। মছব্বির আহমদ সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর (কালেঙ্গা) গ্রামের মো. ফিরোজ মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা দলের সাবেক জনপ্রিয় ক্রিকেটার মছব্বির গত বুধবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিরপুর গ্রামে অবস্থিত তার এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে মনু নদীর পালপুর খেয়াঘাটে নৌকা নিয়ে পার হওয়ার সময় আকস্মিক নদীতে পড়ে তলিয়ে যান। এরপর থেকে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও তার স্বজনরা পুরো নদী খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাননি।
এরপর মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন বাজারের দোকানপাটে মছব্বির আহমদের ছবি ও যোগাযোগের মোবাইল নম্বর দিয়ে সন্ধান পেলে জানানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। অবশেষে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে নিহতের স্বজন ফুল মিয়ার মোবাইল ফোনে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাগ ইউনিয়নের ফেচুর বাজার এলাকা থেকে এক ব্যক্তি জানান, কুশিয়ারা নদীতে এক পুরুষের মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ওই এলাকায় গিয়ে মরদেহটি মছব্বির আহমদের বলে শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের বড় ভাই মো. আলাল মিয়া বলেন, মছব্বির বুধবার বিকেলে তার এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। রাত ১টার দিকে আমাকে ফোনে জানানো হয়, মছব্বির মাঝি ছাড়া একাই নৌকা নিয়ে নদী পার হওয়ার সময় নদীর পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি আমরা মৌলভীবাজার থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। আমরা, স্থানীয় লোকজন, পুলিশ জেলা ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক খোঁজাখুজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। কুশিয়ারা নদীতে একজন পুরুষের লাশ ভাসছেÑ শুক্রবার এ খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ নদী থেকে উদ্ধার করেছে।
মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, মছব্বির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালাই। পরে শুক্রবার নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী নিহতের স্বজনদের খবর পাঠান বলে জানতে পেরেছি।