নিয়ন দুলাল, লালমনিরহাট
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪৯ এএম
সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে পূর্ণ উপজেলা সদরের মহিষখোচা থেকে বুড়িরবাজার হয়ে লালমনিরহাট বুড়িমারী সড়কটি। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর যেন ভুলেই গেছে এসব সড়ক সংস্কারের দায়টা তাদের।
জানা গেছে, আদিতমারীর অর্থনৈতিক ও ব্যবসাবাণিজ্য কেন্দ্র খ্যাত মহিষখোচা ইউনিয়নে রয়েছে অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। রয়েছে একাধিক ব্যাংক বীমা, বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা। উপজেলার একমাত্র কামিল মাদ্রাসাটিও এই এলাকায়। উপজেলা পরিষদের হাটবাজারের বার্ষিক আয়ের বেশিরভাগ আসে মহিষখোচা ইউনিয়নের কুষ্টারীর হাট ও বাজার থেকে। ব্যবসাবাণিজ্য শিক্ষা সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মহিষখোচা।
সেই মহিষখোচার সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি মহিষখোচা থেকে বুড়িরবাজার হয়ে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।
এই সাড়ে চার কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে মহিষখোচা, পলাশী ও ভাদাই ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এসব এলাকার ছেলেমেয়েরা ওই পথ ধরেই উপজেলা সদরের সরকারি আদিতমারী কলেজ, কেবি স্কুল ও কলেজ এবং আদিতমারী জিএস মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন।
মহিষখোচা টু বুড়ির বাজার এ জনগুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার পথটিতে কয়েক হাজার ছোটবড় গর্ত হয়েছে। খানাখন্দের কারণে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মানুষ পঙ্গুত্ব বরণসহ বিকল হচ্ছে যানবাহন। বড় যানবাহন আগে চলাচল করলেও হালফিলে রিকশা, অটোরিকশা আর মোটরসাইকেল, ভ্যান চালানোও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
বড় বা মাঝারি ধরনের ট্রাক যাতায়াত করতে না পেরে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে এ এলাকার ব্যবসায়ীরা। তারা বড় বড় ট্রাকে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে পণ্য আনলেও উপজেলা সদরে নামিয়ে ভ্যানে করে ওই সাড়ে চার কিলোমিটার পার হয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে। ফলে পণ্যে পরিবহন খরচ বাড়ছে কয়েক গুণ। এতে লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। একইভাবে পরিবহন খরচ বাড়ছে ওই এলাকার সরকারি কাজের ঠিকাদারদেরও। তারাও বড় ট্রাকে পণ্যপরিবহন করতে পারছেন না।
স্কুল শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান বলেন, এ সড়ক হয়ে প্রতিদিন অটোরিকশায় বিদ্যালয়ে যাই। বর্তমানে অটোতে উঠলে বুকটা কাঁপে। কখন যে অটো গর্তে পড়ে উল্টে যায়।
মহিষখোচা এলাকার ঠিকাদার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শাহীন বলেন, মহিষখোচা ভূমি অফিসে নির্মাণকাজ করছি। সড়কটি নষ্ট থাকায় ছোট ট্রাকেও পণ্য আনা সম্ভব হচ্ছে না।
মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, সড়ক বেহাল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি একজন কর্মকর্তা বলেন, সড়কটি নষ্ট হওয়ায় কোনো দিনই সময়মতো অফিসে পৌঁছতে পারছি না।
শুধু মহিষখোচা বুড়িরবাজার সড়ক নয়। আদিতমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি বাইপাস সড়কের বেহাল দশা। এ উপজেলায় রুগ্ণ সড়কের তালিকায় রয়েছে মহিষখোচা বুড়ির বাজার সাড়ে চার কিলোমিটার, দুরাকুটি থেকে বামনের বাসা ১২ কিলোমিটার, সাপ্টিবাড়ি থেকে নাড়িয়ার বাজার ৬ কিলোমিটার, কালীস্থান থেকে কমলাবাড়ি দেড় কিলোমিটার সড়কপথ। এসব মেরামত করা জরুরি হলেও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ উপজেলার মানুষের।
আদিতমারী প্রকৌশলী দপ্তর জানায়, সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় মহিষখোচা বুড়িরবাজার সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ভেলাবাড়ি থেকে বামনের বাসা সড়কের ৭ কিলোমিটার ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প নিতে মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য প্রকল্পসহ চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ বাড়ালে বাকিগুলোর প্রকল্প দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উপজেলার বেশকিছু সড়ক নষ্ট। জরুরি ভিত্তিতে কিছু বরাদ্দ চেয়ে মহিষখোচা বুড়িরবাজার ও ভেলাবাড়ি থেকে বামনের বাসা এই দুই সড়ক সংস্কারের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে দুটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দরপত্র আহ্বান করা হবে।