রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৬ পিএম
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমজীবীরা দুপুরে দুই টাকার বিনিময়ে খাচ্ছেন খাসির মাংস ও ইলিশ-খিচুড়ি। ছবি: সংগৃহীত
বাজারে মাছ-মাংসের দাম চড়া হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে খাসির মাংস ও ইলিশ মাছ। তাদের কথা চিন্তা করে রাজবাড়ীতে একদল স্বপ্নবাজ তরুণ গড়ে তুলেছেন ‘২ টাকার হোটেল’। এই হোটেলটি শহরের ব্যস্ততম রেলস্টেশনের পাশেই ফুলতলায় অবস্থিত। সপ্তাহে দুইদিন থাকছে এ আয়োজন। এ হোটেলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমজীবী ও রিকশা চালকরা এসে দুপুরে দুই টাকার বিনিময়ে খাচ্ছেন খাসির মাংস ও ইলিশ-খিচুড়ি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ী রেলস্টেশন সংলগ্ন ফুলতলায় গিয়ে দেখা যায়, চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে বসে আছেন একদল স্বপ্নবাজ তরুণ। সেখানে রিকশাচালক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শ্রমজীবী মানুষ ছুটে আসছেন। এসেই হাত ধুয়ে বসে পড়ছেন। খাবার দেওয়া হচ্ছে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ। পেট পুড়ে খাওয়ার পর টিস্যু দিয়ে হাত মুছছেন। যারা পান খান, তাদের জন্য রাখা হয়েছে পানের ব্যবস্থা। এ যেন এক মেজবানের আয়োজন। পেট পুড়ে খাওয়ার পর আয়োজকদের জন্য করছেন দোয়া।
পাবনা থেকে কাজে আসা আসাদুল বলেন, কাজের সন্ধানে প্রায় এক মাস রাজবাড়ীতে এসেছি। কাজ থাকলে গৃহস্থের বাড়িতে থাকি, না থাকলে রেলস্টেশনে রাত যাপন করি। এখানে দুই টাকার হোটেলে এসে আগের দিন খেয়েছি খাসির মাংস। আজ দিয়েছেন ইলিশ মাছ আর খিচুড়ি। এদের আয়োজন খুব ভালো লেগেছে।
খাবার খেয়ে অনেকেই বলেন, আমরা দুপুরে পেটভরে ভালো খাবার খেতে পারি না। এ ধরনের আয়োজন করায় ভালো লাগছে, দুপুরের খাবার খেতে পারলাম। আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছেলে মনিরুল হক সাগর তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে বাসায় গিয়ে দুই টাকার হোটেল আয়োজনের কথা বলে। তখন তার মা তাদের রান্না করে দিতে সম্মত হয়। এরপর থেকেই এ আয়োজন করে আসছে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এ আয়োজন করতে পেরে ভালো লাগছে। বিত্তবানদের এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
আয়োজক মনিরুল হক সাগর বলেন, আমরা বন্ধুরা শ্রমজীবী মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। নাহিদ ইসলাম, মাহিম শিকদার, রাব্বি শেখ, মুন্নাসহ আরও অনেকের সহযোগিতায় নিজেদের অর্থায়নে রমজানের সময় শ্রমজীবী মানুষের জন্য পাঁচ টাকায় ইফতারির আয়োজন করি। পরে চিন্তা করি, এ ধরণের কার্যক্রম ধারাবাহিক রাখতে। এ চিন্তা থেকেই সপ্তাহে দুইদিন অন্তত শ্রমজীবী মানুষের জন্য খাসির মাংস ও ইলিশ খিচুড়ির আয়োজন। প্রতিদিন ৮০ জনের জন্য আয়োজন করি।
মাহিম শিকদার বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। এ থেকেই ‘২ টাকার হোটেল’ কার্যক্রম শুরু করি। অনেকেই ফ্রি খেতে চায় না, তাই নামমাত্র ২ টাকা ধার্য করেছি।
তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এসে আমাদের কার্যক্রম তদারকি করাসহ তিনিও শ্রমজীবীদের সঙ্গে খেয়েছেন। আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ যে ‘২ টাকার হোটেল’ নামে কার্যক্রম শুরু করেছে, এতে আমরা তরুণ সমাজের মধ্যে ভালো কাজের যে অনুপ্রেরণা পাচ্ছি, তাতে তারা আগামী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ ধরণের কার্যক্রমে সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।