× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শ্রীপুরে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, বাড়ি পুড়িয়ে দিল জনতা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৪৪ পিএম

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টায় উত্তেজিত জনতা ওই গৃহবধূর স্বামী নুরুল ইসলাম মৃধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। প্রবা ফটো

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টায় উত্তেজিত জনতা ওই গৃহবধূর স্বামী নুরুল ইসলাম মৃধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। প্রবা ফটো

গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী মধ্যপাড়া (মৃধা বাড়ী) গ্রামে স্ত্রীকে তিনদিন নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ গৃহবধূর শাশুড়ি জোবেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্বামী ও শ্বশুর ঘটনার পর পালিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টায় উত্তেজিত জনতা ওই গৃহবধূর স্বামী নুরুল ইসলাম মৃধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এর আগে বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে গৃহবধূকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে নির্যাতনের পর গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। নিহত গৃহবধূ সুইটি আক্তার নিশি (২২) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার চাকুয়া গ্রামের আফসারুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী নুরুল ইসলাম মৃধা (৩৪) বরমী মধ্যপাড়া (মৃধাবাড়ি) গ্রামের শাহ্জাহান মৃধার ছেলে। নুরুল ইসলামের নামে শ্রীপুর থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

নিহতের খালাতো বোন আকলিমা আক্তার জানান, প্রায় দেড় বছর আগে সুইটি আক্তার নিশির সঙ্গে নুরুল ইসলাম মৃধার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে চার মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর সুইটি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত ও এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাদকাসক্ত স্বামী বিয়ের পর থেকে সুইটিকে নির্যাতন করত।

৩-৪ দিন আগে শ্রীপুর থানা পুলিশ নুরুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করতে যায়। তাকে না পেয়ে পুলিশ নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুইটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।  সুইটি তার স্বামী মাদকাসক্ত এবং মাদক কারবারি বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন। এ বিষয়ে জানতে পেরে স্বামী নুরুল ইসলাম, তার শ্বশুর শাহ্জাহান মৃধা এবং শাশুড়ি জোবেদা খাতুন তাকে নির্যাতন করতে থাকে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের বিয়ের ঘটক নাজমুল মোবাইল ফোনে সুইটির স্বজনকে তার মৃত্যুর খবর জানায়। ঘটনার পর স্বামী নুরুল ইসলাম মৃধা এবং শ্বশুর শাহ্জাহান মৃধা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্বজনেরা নুরুল ইসলামের বাড়িতে এসে সুইটির মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শ্বাশুড়ি জোবেদা খাতুনকে আটক করে। গৃহবধূ হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে স্থানীয় জনতা নুরুল ইসলামের দুই বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আগুনে দুইটি বাড়ির আটটি কক্ষ এবং আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

গৃহবধূ সুইটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুইটি অসহায় মেয়ে। ছোটকাল থেকে বাবা-মা তার খবর নিতেন না। খালা কলিমা বেগমের আদরে সুইটি বেড়ে উঠেছে। ঘটক নাজমুলের সহায়তায় দেড় বছর পূর্বে সুইটিকে নুরুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে বিয়ে দেন। তিনি এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। চার মাসের দুধের শিশুর সামনেই সুইটিকে নির্যাতনের পর গোপনাঙ্গে বাঁশ অথবা ছুরি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। শিশুটির শরীরেরও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শ্রীপুররের মাওনা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে বেলা ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সুরতহাল রিপোর্টে সুইটির দুই পা হাঁটুর নিচে থেঁতলানো। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে লোমহর্ষক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, স্থানীয়দের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে গৃহবধূকে নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে শাশুড়ি জুবেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা