× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি মব

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ০৯:২২ এএম

সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি মব

মবকে সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, মব সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উপস্থিত হয়েছে, এটা বিবেচনা করতে হবে। সরকার, মালিকপক্ষ ও সম্পাদকের বাইরেও এ রকম একটা সামাজিক শক্তি তৈরি হয়েছে, যে শক্তিটা সাংবাদিকতাকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এটা সবার ধর্তব্যে নেওয়া দরকার।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : অভিযোগ নিষ্পত্তি ও স্বনিয়ন্ত্রণের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

আলী রীয়াজ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নানা পক্ষের পাশাপাশি একটি ‘সামাজিক শক্তি’ সক্রিয় রয়েছে। কর্তৃত্ববাদী সরকার থেকে গণতান্ত্রিক ধারায় রূপান্তরের সময় এ ধরনের শক্তি তৈরি হয়। ফলে দেশে যা ঘটছে, তার অনেক কিছুই ওই শক্তির প্রভাবে ঘটছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, এই যে প্রশ্ন করা হচ্ছেÑ এতগুলো কমিশন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না কেন? আপনারা সাংবাদিকরা একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন না, কেন হচ্ছে না। এটা নিয়ে অনুসন্ধান করুন।

সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে আলী রীয়াজ বলেন, আমি বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করি, ১৬ বছর ধরে যে পরিস্থিতি আপনারা মোকাবিলা করেছেন, কেন সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে, আপনাদের পক্ষ থেকে সিভিল সোসাইটিকে যুক্ত করে এমন একটা কিছু তৈরি হলো না, যারা আসলে গত ১৬ বছরকে রিভিউ করবেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলো দলীয়ভাবে বিভক্ত হতে হতে কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে! একটি সম্পাদক পরিষদের পাল্টা আরেকটি দাঁড় করানো হয়েছে।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক দৌড়ের ওপরে আছে। অনেকে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে। গত ৫৪ বছরে স্বাধীন সাংবাদিকতার চিত্র পাল্টেনি। সাংবাদিক ইউনিয়নের কাজ কী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর কাজ কী। শুধু স্লোগান? সাংবাদিকরা বিভাজিত না হলে এ অবস্থা সৃষ্টি হতো না। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমাদের হাত-পা বেঁধে দেওয়ার কারণে আন্দোলন করলাম। আইন করে দায়িত্বশীলতা তৈরি করা যায় না। নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষ করেছেনÑ এটা ঠিক হয়নি।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, মিডিয়া জগৎ রোগাক্রান্ত এটি বাইরে থেকে বোঝা যায় না। সাংবাদিকরা লেভার কোর্টে মামলা করে, এটি আমাদের আহত করে। বরং তাদের অর্থপ্রাপ্তি কমিশন করা দরকার। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাজ কী? চাকরির নিশ্চয়তা নেই। অনেক জায়গায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয় না। বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রাজা বলেন, আমরা অনেক কিছু জানি, কিন্তু বলতে পারি না। মিডিয়া স্বাধীন বললেও স্বাধীন না। তিনি বলেন, মিডিয়া কমিশনের ১৫ দফা দেওয়ার পরও মিডিয়া কমিশন না করে প্রেস কাউন্সিলকে আবার গঠন করেছে। ৮০ শতাংশ হাউসে ঠিকমতো বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। তাই নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জিল্লুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের স্বনিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোগ নিরসন নিয়ে আজকের এই আলোচনা। বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনকে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকার ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। প্রেস কাউন্সিল পুনর্গঠন করা হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা সরাসরিও অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে যা দেখেছি তা হলো তেমন কিছুই হয়নি। 

আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোরশেদ, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এসএম শামীম রেজা, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা