হালুয়াঘাট
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৪৫ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বলারামপুরসহ পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি কাঁচা সড়ক। বর্ষা এলেই সেই সড়ক রূপ নেয় কাদা পানির কূপে। হাঁটুসমান কাদায় চলাচল তো দূরের কথাÑ এক বোঝা ধান বাজারে নিতে গেলেও ঠেলতে হয় ঠেলাগাড়ি, জোটাতে হয় কয়েকজন মানুষ। এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক থেকে শিক্ষার্থী, দিনমজুর থেকে কর্মজীবী সবাই।
স্থানীয় কৃষক সিরাজ আলী বলেন, দুইডা ধান বাজারে নিবার চাইলেও পেকের (কাদার) মধ্যে নিওন যায় না। কয়েকজন মিইল্লা ঠেইলা ধাক্কায়া নেওয়া লাগে। বর্ষা আইলে আমগোর কষ্টের সীমা থাহে না। এই কষ্ট মেলা বছর ধইরা। চেয়ারম্যান মেম্বারগো কইয়া কোনো লাভ অইল না। মাপজোক তো মেলা অইল, সড়ক আর পাকা অইল কই। রাইত অইলে বিপদ আরও বাড়ে, আল্লাহ জানে কবে মুক্তি পাইব এই কষ্ট থাইক্কা।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি স্টেডিয়াম চৌরাস্তা এলাকার বিলপাড়া থেকে রুস্তম মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বছরের বেশিরভাগ সময়ই কাদামাটি আর গর্তে ভরা থাকে। বর্ষাকালে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধোবাউড়া সদর ইউনিয়নের চরেরভিটা, পূর্ব দর্শা, কাঠালিরপাড়, বলারামপুর এবং বিলপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের এটি একমাত্র চলাচলের রাস্তা। বিকল্প কোনো সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। বছরের শুষ্ক মৌসুমে সড়কে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাদামাটির ভোগান্তির শিকার হতে হয় এই সড়কে চলাচলকারীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা হুকুম আলী বলেন, আমাদের দুঃখকষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শোনে না। এই এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না। নিজ চোখে দেখতে হবে, কতটা কষ্টে আছি। শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন বলেন, বৃষ্টি হইলে এই রাস্তায় যাওয়া মুশকিল। স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আমরা দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।
ধোবাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মুকুল বলেন, সড়কটি নিচু এলাকায় হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দ পেলে শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু হবে।
ধোবাউড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, সড়কটি সড়ক বিভাগের আইডিতে নেই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র মাধ্যমে আবেদন করলে আইডি ফাইল করে পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।