× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বুড়িচং

কংশনগর বাজারে বেপরোয়া ইজারাদার!

জাকির হোসেন, বুড়িচং (কুমিল্লা)

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৬:১৪ পিএম

বুড়িচংয়ে ‍কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের কংশনগর বাজার। প্রবা ফটো

বুড়িচংয়ে ‍কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের কংশনগর বাজার। প্রবা ফটো

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজারে ইজারাদারের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারটির অবস্থান কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে, যা জেলার অন্যতম বৃহৎ বাজার হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন শত শত বিক্রেতা ও হাজার হাজার পাইকার-খুচরা ক্রেতার আনাগোনায় মুখর থাকে বাজারটি। বেপরোয়া খাজনা আদায়ের ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা এবং ক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। দিনের পর দিন এই নৈরাজ্য চললেও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান ইজারাদার খোরশেদ আলম ১৪৩২ সনে প্রায় ৫৮ লাখ টাকায় ইজারা নেন বাজারটি। এরপর থেকেই তিনি সরকারি নির্ধারিত হার উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করছেন। যার ফলে একদিকে বিক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারা উচ্চ মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরকার নির্ধারিত খাজনা হার অনুযায়ী চাল দোকান ৮ টাকা, ধান প্রতি মণ ১০ টাকা, ফলের বড় দোকান ১৫ টাকা, মাছের বড় দোকান ৩৩ টাকা, হাঁস-মুরগির খাঁচা প্রতি ক্রেতার ১৩ ও বিক্রেতার ৮ টাকা ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে ভাসমান দোকান থেকে ইজারাদার ৭০ থেকে ১৫০ টাকা, মাছের আড়তের ক্ষেত্রে সপ্তাহের হাটবারে ৪০০ টাকা ও অন্যান্য দিনে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। গরুর গোশতের দোকানে ২৪০ টাকা, কাপড়ের দোকানে ১৫০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

ইজারাদার বাজারটিকে মোট ২৮ ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগে আলাদা লোক নিয়োগ করেছেন খাজনা আদায়ের জন্য। ফলে প্রতিদিন সকালে কাকডাকা ভোর থেকেই শুরু হয় খাজনা সংগ্রহ। এতে দোকানদাররা ব্যবসা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত ২৬ জুলাই বাজারে কবুতর বিক্রেতাদের সঙ্গে ইজারাদারের লোকজনের তিন দফা সংঘর্ষে অন্তত ৮-১০ জন আহত হন। এক কবুতর বিক্রেতা অভিযোগ করেন, ১০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকা দিয়েছি, তবুও তারা ৭০ টাকা চায়। ২০ টাকা না দেওয়ায় আমাকে মারধর করে। পরে সালিশে বসলে সেখানেও আমাদের ওপর হামলা চালায়।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, গত ২০-৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি, আগে এত খাজনা কোনোদিন দিইনি। এখন তো প্রতিদিনই হাট বসানো হচ্ছে। শনি ও বুধবার বাড়তি খাজনা নেওয়া হয়, কিন্তু অন্য দিনগুলোতেও ছাড় নেই। এমনকি বুট-বাদাম বিক্রেতাদের কাছ থেকেও প্রতিদিন ২০-৩০ টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে। মাছ, মুরগি, ফলমূল, তরিতরকারিÑ প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেই সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আদায় করা হচ্ছে। দিনের পর দিন এই নৈরাজ্য চললেও প্রশাসনের নীরবতা উদ্বেগজনক। কেউ মুখ খুললেও হুমকির মুখে পড়েন বলে জানান একাধিক বিক্রেতা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার খোরশেদ আলম বলেন, আমাকে উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্ধারিত কোনো খাজনার তালিকা দেওয়া হয়নি। আমরা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছি না।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, সরকারি বিধিমোতাবেক খাজনা আদায় করতে হবে। অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া যাবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আমরা মনিটরিং করব এবং বাজারে খাজনার নির্ধারিত তালিকা লিফলেট আকারে বিতরণ করব।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা