× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

সুস্থ না হয়েই দেশে ফিরলেন জুলাই যোদ্ধা আনোয়ার

রাজবাড়ী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম

সুস্থ না হয়েই দেশে ফিরলেন জুলাই যোদ্ধা আনোয়ার

থাইল্যান্ডের যান আনোয়ার হোসেন নিজের পায়ে হেঁটে চলার স্বপ্ন নিয়ে সরকারিভাবে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে দেশে ফিরবেন এ আশায়। সেখানে আর কিছু দিন চিকিৎসা নিতে পারলে তার স্বপ্ন পূরণ হতো। কিন্তু সম্পুর্ণ সুস্থ না হয়েই বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন জুলাই যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের কলিমহর গ্রামের মকবুল হোসাইন ও রোকেয়া খাতুনের ছেলে।

দেশে ফিরে আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক আশা ছিল নিজের পায়ে হেঁটে দেশে ফিরব। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। সুস্থ হতে পারব কিনা জানি না। হুইল চেয়ারে বসে দেশে ফিরতে হলো।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার বাবা মারা যায়। তারপর থেকে নানা বাড়ি ও এতিমখানায় থেকে বড় হয়েছি। তারপর যখন কাজ করতে শিখলাম, তখন ঢাকায় আসলাম। পরে সবকিছু ভালোই চলছিল। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করছি। শেষ সেমিস্টার চলছে আর পাশাপাশি গার্মেন্টস এ চাকরি করতাম। পরে ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিয়ে করি। স্ত্রী আকলিমা খাতুন মানিকগঞ্জ সরকারি বিএসসি নার্সিং এ পড়াশোনা করে। মা শুধু গ্রামে থাকে। এ আমার পরিবার। মায়ের খরচ আমি চালাই। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গিয়ে গুলশান-২ এর শাহজাদপুর এলাকার কনফিডেন্ট টাওয়ারের মাঝামাঝি এলাকায় বুকে গুলিবিদ্ধ হই। ওই সময়ে উপরে হেলিকপ্টার থেকে, সামনে পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ নেতারা গুলি করছিল।

আনোয়ার বলেন, কোন দিক থেকে গুলি এসে আমার বুকে লাগে, আমি বুঝতে পারিনি। তখন পাশ থেকে কেউ একজন বলে ভাইয়ের গুলি লাগছে, ভাইকে ধর। পরে আমি আমার বুকের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমার বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে। গুলি লাগার সাথে সাথে আমার বুক থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যায়। তখন সবাই মিলে আমাকে ধরে। পরে পাশে এমজেড হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। আমার অবস্থা খারাপ থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে আমার মামাতো ভাই লিমন এবং সাথে যারা ছিল তারা আমাকে ধানমন্ডি হাসপাতালে, স্কয়ার হাসপাতালসহ আরো কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কোনো হাসপাতালে ভর্তি নেয় না। পরে আমার অফিসের সহয়তায় ঢাকা এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হই। চিকিৎসক বলে আমার স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি হয়েছে। যার ফলে, আমার বুক থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৮ দিন এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। ১৮ দিনের চিকিৎসার জন্য ৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ সম্পূর্ণ খরচ আমার কোম্পানী আমাকে দেয়। আমার কোম্পানির প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ।

আনোয়ার আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়। তারপরে আমি ৭ দিন বাসায় থাকি। চিকিৎসকরা আমাকে ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। কিন্তু আমার শারীরিক অবস্থা তখন অনেক খারাপ, ব্যায়াম করব কীভাবে। পরে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সকালে আবার যাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির হওয়ার জন্য। কিন্তু ওইদিন ও আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি নেবে না। সারা দিন ঢাকা মেডিকেল ইমার্জেন্সির সামনে স্টেচারে শুয়ে থাকি। আমার গলায় ছিল স্টুডেন্ট কার্ড, স্টুডেন্ট কার্ড দেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। সন্ধ্যার পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করে। তারপর দীর্ঘ ৬ মাস পর ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, আমি যখন গুলিবিদ্ধ হই, তখন আমার স্ত্রী ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে আমার স্ত্রী এবং মা আমার সাথে সব সময় ছিল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আমার স্ত্রী একটানা ৬ মাস আমার সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকে। আমার স্ত্রী আমার জন্য তার পড়াশোনা ১ বছর করতে পারেনি। পরে আমার স্ত্রীর হাসপাতালেই পুত্র সন্তান জন্ম হয়। আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেদিন দেশের বাইরে থাইল্যান্ডে আসি। ওইদিন ১৪ দিনের ছেলে আরাফ হোসাইনকে রেখে চলে আসি থাইল্যান্ডে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন আমার অবস্থা আগের থেকে ভালো। কিন্তু এখনো প্রসাব, পায়খানা বুঝি না, নিজের পায়ে এখনো নিজে নড়াতে পারি না, নিজে নিজে বিছানায় এপাশ-ওপাশ হতে পারি না, নিজে নিজে পেছনের সাপোর্ট ছাড়া বসে থাকতে পারি না। এমন অবস্থায় আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্য বলেন, আমার একটাই চাওয়া, আমি যেন সুস্থ হয়ে নিজে যেন একটু দাঁড়াতে পারি, শুধু এতটুকুই চাই, প্রসাব-পায়খানার অনুভুতি বুঝতে চাই। এ বিষয়ে অবশ্যই সরকার উদ্যোগ নেবেন বলে দাবি জানান।

আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, আমরা দেশের জন্য, নতুন বাংলাদেশের জন্য, চাকুরীর নিশ্চয়তা, খাবারের নিশ্চয়তা, চিকিৎসার নিশ্চয়তার জন্য আন্দোলন করেছি। আর এখন সবাই ব্যস্ত যার যার রাজনীতি নিয়ে। আমাদের চিকিৎসার খবর কেউ রাখে না। এ কারণেই কি আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। আর এখন সু-চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়া নিয়ে দু’চোখে অন্ধকার দেখছি। আমার এ আকুতি কি শুনতে পাবেন, জানি না। আমি শুধু আমার চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানাই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা