ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক হাজার সরকারি ফলজ গাছের চারা বিতরণ না করে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক হাজার সরকারি ফলজ গাছের চারা বিতরণ না করে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের পাশের খালে চারাগুলো ফেলে দেওয়া হয়। চারাগুলো বিতরণ না করে ফেলে দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে গত ১৫ জুলাই প্রায় ১২০০ গাছের চারা ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে ১৬ জুলাই ১২০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। বাকি প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ বা বিতরণ না করে পানিতে ফেলে দেন প্রতিষ্ঠানের দারোয়ান মোস্তফা মিয়া ও সুইপার জুবায়ের হোসেন।
এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে মোস্তফা ও জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘আমাদের অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীন ম্যাডাম বলেছেন গাছের চারাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এগুলো ফেলে দিতে, তাই ফেলে দিয়েছি।’
ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটর শামীমা সুলতানা উমা বলেন, ‘স্কুলের পাশেই আমার টেইলার্স রয়েছে। গাছের চারা খালের মধ্যে আটি করে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা আমাকে খবর দিলে আমি দারোয়ান ও সুইপারকে জিজ্ঞেস করি। তারা বলে অধ্যক্ষ ম্যাডামের নির্দেশে তারা এগুলো ফেলে দিচ্ছে।’
ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অভিযুক্ত সুরাইয়া পারভীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারিয়া আক্তার রুবি বলেন, সরকারি গাছের চারা বিতরণ না করে নষ্ট করে ফেলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। বৃক্ষরোপণ বা বিতরণ না করতে পারলে সেগুলো আমাদের কৃষি অফিসে জমা দিবে। কিন্তু ফেলে দিয়ে অন্যায় করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারি বই গোপনে বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বই বিক্রির সময় স্থানীয়দের হাতে অধ্যক্ষ, পিকআপ চালক ও বই ক্রেতাকে আটক করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ, কাজ না করিয়ে বিল তোলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।