টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:২৩ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৩৫ পিএম
আজ ১১ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস।১৯৭১ সালের এইদিনে টাঙ্গাইল শহরকে সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্তির আনন্দে ওইদিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল।
৫০ বছর আগে এই দিনটি টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এনেছিল বিজয়ের বার্তা। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও পলায়নের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছিল টাঙ্গাইল।
সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণ আর প্রচণ্ড গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। অবশেষে সেই কাঙ্খিত দিন ও মুহূর্তটি আসে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং মুক্তির আনন্দকে স্মরণীয় করে তোলে।
যুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতাপূর্ণ কাহিনী দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ বীরত্বের কথা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
এপ্রিল থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় কাদেরিয়া বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে পাকসেনাদের পর্যুদস্ত করে। এ যুদ্ধে ৩০০ দেশপ্রেমিক ও অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রধান কাদের সিদ্দিকী সখীপুরের মহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তুলেন দুর্ভেদ্য দূর্গ। আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনারা জেলার অন্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয় তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। মিত্র বাহিনীর সঙ্গে হানাদারদের পুংলি নামক জায়গায় সংর্ঘষ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে সেনারা টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। ১০ ডিসেম্বর রাতে টাঙ্গাইল প্রবেশ করেন কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা। ১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ ও খন্দকার আনোয়ার টাঙ্গাইল পৌঁছান। এরপর আসেন বিগ্রেডিয়ার ফজলুর রহমান। পরে সার্কিট হাউসে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাদের কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয় টাঙ্গাইল।
স্বাধীনতার পর থেকে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে টাঙ্গাইলবাসী। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল পৌরসভার উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১২ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবসের উদ্বোধন করবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এসএম সিরাজুল হক আলমগীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক সহ অনেকে। ১২ দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ পদে থাকা নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।