রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ২২:০১ পিএম
রংপুরে অটো গ্যাস ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের দুটি কারণ অনুসন্ধান করেছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর। গ্যাস ট্যাংকে মজুত করা এলপিজি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ না করে লিকেজ মেরামতের কাজ করার সময় ওয়েল্ডিংয়ের আগুন এলপিজি গ্যাসের সংস্পর্শে আসায় অত্যাধিক তাপ ও চাপ তৈরি হয়। ফলে তা থেকে ট্যাংক বিস্ফোরণ হতে পারে।
সেই সাথে নিম্নমানের শিট ও সরঞ্জাম দিয়ে গ্যাস ট্যাংক তৈরি করার ফলে কার্যকরী চাপ সৃষ্টির আগেই ট্যাংকের বিস্ফোরণ হতে পারে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সকালে নগরীর আইডিয়াল মোড়ের নিজ কার্যালয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক অশোক কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, রংপুর নগরীর সিও বাজার এলপিজি অটোগ্যাস অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে গত ১৯ জুলাই বেলা দেড়টায় গ্যাসের ট্যাংক মেরামতে ওয়েল্ডিং করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্যাংকের মেরামতে কাজ করা সেলিম রেজা সোহাগ (৩৫) নামে এক মিস্ত্রি নিহতসহ ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ১৯ জুলাই ও ২০ জুলাই ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনসহ আহত-প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন তিনি। সেই সাথে নথিপত্র যাচাই করে দেখেন, ২০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এলপিজি ট্যাংক স্থাপনের জন্য ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট অটোগ্যাস স্টেশনের মালিক আরিফুজ্জামান আরিফ ও ফারুক আহমেদ বিপুল আবেদন করলে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন বিস্ফোরক পরিদর্শক ফরিদ উদ্দীন অটোগ্যাস স্টেশনটি পরিদর্শনে ত্রুটি পায় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও চুক্তিপত্র দাখিল না করায় সদর দপ্তর থেকে ওই গ্যাস স্টেশনের চূড়ান্ত অনুমোদন বা লাইসেন্স মঞ্জুর করা হয়নি।
এদিকে সোমবার সকালে নগরীর আইডিয়াল মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ অটো গ্যাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রংপুর জোনের সভাপতি খন্দকার মাহমুদ ইলাহী ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ রহমান সাগর জানান, গ্যাস ট্যাংক সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের সাথে প্রতারণা করে নিম্নমানের ট্যাংক সরবরাহ করেছে। এতে করে অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন মালিকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোপূর্বে নিম্নমানের ট্যাংকের কারণে মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ জুলাই সিও বাজারের গ্যাস ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় নেতারা প্রতিটি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের গ্যাস ট্যাংক পরীক্ষায় বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে আহ্বান জানান। সেই সাথে নিম্নমানের গ্যাস ট্যাংক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।